নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা পাওয়ার ‘নীলনকশা’ চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বিএনপি

নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা পাওয়ার ‘নীলনকশা’ চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বিএনপি

সেবা ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনায় সফলতা না পেয়ে এবার নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় যাবার নীলনকশা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমান। যেখানে প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করবে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন আইএসআই। 

বিশেষ সূত্রে পাওয়া এই খবরের সত্যতাও নিশ্চিত করেছেন দলে তারেক রহমান দ্বারা নিগৃহীত অন্তত তিনজন নেতা। এদিকে তারেক রহমানের এমন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ধার্য করে আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে একযোগে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হবে। আর প্রত্যাহারের রেশ ধরেই ‘সরকার নির্বাচনে ব্যর্থ’ বলে দাবি করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। 

এমনকি ওই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইএস’র সহযোগে রাজপথে আতঙ্ক ছড়াবে দলের নেতারা। এর মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় যাওয়ার সব রকম চেষ্টা চালাবে দলটি। আর পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিতে তাতে প্রধান সহযোগিতায় সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করবে আইএসআই। এ নিয়ে সহযোগিতার সব ধরণের আশ্বাসও দিয়েছে সংগঠনটি।

পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা এবং দলের রোষ থেকে বাঁচতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন নেতার একজন জানান, গত ২৭ নভেম্বর তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে গোপন সফরে লন্ডনে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। পরে একদিনের সফরে নির্বাচনকেন্দ্রিক চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে ফিরেছেন তিনি। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের মধ্যে সব নেতার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে এটিকে আন্দোলনে রূপান্তরিত করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। যা পরবর্তী অন্তত দুই মাস সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নের ছক কষা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেতে এরইমধ্যে আইএসআই’ এর সঙ্গে কমপক্ষে ৩টি বৈঠক শেষ করেছেন তারেক রহমান।

নিগৃহীত ওই তিন নেতা জানান, আসন বন্টন, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং শরিকদের সঙ্গে বোঝা-পড়ার অবস্থান ভালো না হওয়ায় সরকার গঠন করে ক্ষমতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে এই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে অনুসরণ করা হবে ২০১৪ সালের ফর্মুলা। পরিস্থিতি বিগড়ে দিতে ব্যাপক পরিমাণ জ্বালাও-পোড়াও এবং পরিবহন ধর্মঘট, হরতালসহ জনমনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করা হবে। নির্বাচন বানচালের ফলে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পুনরায় ক্ষমতাহীন হয়ে থাকার চেয়ে শেষ চেষ্টা করে দেখতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে বিগত সময়ের মতো পলাতক আসামী তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাতেও দ্বিমত পোষণ করছেন নীতিনির্ধারক নেতারা। যদিও তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার মতো আলোচনা কোন নেতাই এখনো তোলেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় বলেন, তারেকের এমন পরিকল্পনা তার উগ্রতার সঙ্গে মিলে যায়। ২০১৪ সালেও তার পরিকল্পনাতেই দেশের ইতিহাসে বীভৎস অরাজকতা করা হয়েছিলো। এবারও যদি তা হয় তবে তা গোটা দেশের মানুষের জন্য অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হবে। চলমান ধারাবাহিকতা থেকে ছিটকে পড়লে অন্তত ৫০ বছর পিছিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এর চেয়ে বড় কথা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে। যেহেতু তারেক রহমান একজন পলাতক আসামি, ফলে একজন আসামি হয়ে একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জবাব তার পাওয়া উচিৎ। তিনি যেহেতু ক্ষমতার জন্য করতে পারেন না এমন কিছু নেই, তাই সরকার এবং প্রশাসনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা অত্যাবশ্যক। যেকোন মূল্যে একে রুখে দেয়া সরকারের দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।-সূত্র বাংলা নিউজ পোস্ট
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে