টাঙ্গাইলে সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন নারী

টাঙ্গাইলে সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন নারী
আরিফ উর রহমান টগর, টাঙ্গাইল: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখাসহ সাংবিধানিক পদ্ধতি আর গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থসহ পরিচালিত সরকারের জবাবদিহিতায় গঠিত ৫ বছর মেয়াদী সংসদীয় জনপ্রতিনিধিত্বকারী নির্ধারণ এবং সরকার প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 

যদিও অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বে টাঙ্গাইলের সংসদীয় ৮টি আসনেই একাধিক দলীয় ও নির্দলীয় পুরুষ প্রার্থীরা অংশগ্রহণ আর নির্বাচিত হলেও ছিলনা কোন নারী প্রার্থী। 

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত জনগণের সরাসরি ভোট যুদ্ধের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছেন তিন নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী। যদিও ইতোমধ্যে প্রচার প্রচারণাসহ জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩টি সংসদীয় আসনে সরাসরি জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল ৪ নারী প্রার্থী। 

নারী প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে সর্বোচ্চ উল্লেখযোগ্য ও জনশ্রুতিতেও এগিয়ে ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বর্তমান সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। তবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত এই প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভোটযুদ্ধের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সড়ে গেছেন। 

এছাড়াও দেশের সর্বোচ্চ আলোচিত মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের শেষদিন ঋণখেলাপী অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়া ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এর আসন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল)। 

এ স্বত্তেও আলোচিত এ আসনটির চূড়ান্ত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীতায় টিকে থাকাসহ এ ভোটযুদ্ধের হেবিওয়েট তালিকায় রয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় মনোনীত ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এর মেয়ে ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী। 

এ আসনটিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, কৃষক শ্রমিক জনতালীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা, জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফি সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী। 

এছাড়াও মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের শেষদিন ঋণখেলাপী অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়া এ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন, ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জাতীয় পার্টি প্রার্থী কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, খেলাফত মজলিস প্রার্থী আব্দুল লতিফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহীদুল ইসলাম।

এ আসনটির মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ জন।

এছাড়াও জেলার একমাত্র শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উপজেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লিপি বেগম ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল এর রূপা রায় চৌধুরী।

রাজনৈতিক অঙ্গণে দলগুলো ছোট হলেও এর প্রতিটি দলেই রয়েছেন অসংখ্য পুরুষ নেতৃত্ব। তবে এই দুই নারীরা উভয়েই আসনটির ভোটার জরিপ ও ব্যক্তি জনশ্রুতিতে দলের পুরুষ নেতৃত্বের চেয়ে এগিয়ে থাকায় দলীয় প্রার্থী মনোনীত হওয়ার মর্যাদা লাভ করাসহ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত প্রার্থী যোগ্যতা সম্পন্ন থাকায় তারা মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়েও চূড়ান্ত হয়েছেন। 

যদিও এ নির্বাচনী ভোটযুদ্ধে তাদের লড়তে হবে আসনটির টানা তিনবারের এমপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন। 

এছাড়াও রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী কারাবন্দি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব, সৈয়দ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিশ), রুপা রায় চৌধুরী (প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল), জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী। 

এছাড়াও মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের শেষদিন ঋণখেলাপী অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়া এ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিশের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান পেশোয়ারি।

এ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ১০২ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৮ জন।
⇘সংবাদদাতা: আরিফ উর রহমান টগর

, , , , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে