টাঙ্গাইলে তিনবার মন্ত্রীত্ব প্রাপ্তির ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ড. রাজ্জাক

টাঙ্গাইলে তিনবার মন্ত্রীত্ব প্রাপ্তির ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ড. রাজ্জাক
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, সেনা শাসিত এরশাদ সরকার পতন আন্দোলনের সর্বজন স্বীকৃত ও প্রশংসনীয় ভূমিকার দাবিদার ও দেশের অন্যতম রাজনৈতিক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় টাঙ্গাইল। 

এছাড়াও অসংখ্য আন্দোলন সংগ্রামের অবদানও রেখে দেশ বরেণ্য রাজনীতিবিদের পরিচিতি অর্জন করেছিলেন এ জেলার অসংখ্য ব্যক্তিত্ব। তবে এ স্বত্তেও দেশ ও দলীয় অবস্থানে অন্যতম প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই হারিয়েছেন স্ব স্ব অবস্থান। 

যার ফলে বর্তমানে নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পরছে বলে প্রায়ই স্বীকৃত হয়ে উঠেছিল টাঙ্গাইল। তবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অভিশপ্ত পরিচিতির অবসানসহ প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদের কৃতিত্ব আর জেলার রাজনৈতিক খ্যাতির একমাত্র রক্ষা কবজ রূপ ধারণ সক্ষমতা অব্যাহত রেখেছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। 

যার প্রতিফলন স্বরূপ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয় স্বত্তেও সরকার গঠণ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়েই গঠিত মন্ত্রী পরিষদে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন কৃষিবিদ সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের টানা তৃতীয় দফায় সরকার গঠণেও মন্ত্রীত্ব প্রাপ্তির ফলে এ জেলার প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনবার মন্ত্রীত্ব লাভের মর্যাদা আর ইতিহাসটি রচনা করলেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম রাজনীতিবিদ ড.আব্দুর রাজ্জাক।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের সংসদীয় আসন-১ এর ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের মৃত. জালাল উদ্দিনের দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় ড. আব্দুর রাজ্জাক। যদিও রাজনৈতিক কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ না করলেও ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির অনুসারী ছিলেন তিনি। 

যার ফলশ্রুতিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় ময়মনসিংহ কৃষিবিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে দেশকে স্বাধীন করতে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় টাঙ্গাইলের পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধেও সাহসী মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব দেখিয়েছেন তৎকালীন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক তা আজও জেলার প্রবীণ সমাজ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অবস্মরনীয়। 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার বীরত্বের অন্যতম বর্ণনাময় ১৯৭১ এর ১০ ডিসেম্বর রাতে কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা টাঙ্গাইলে প্রবেশ করাসহ বর্তমান টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় গঠিত পাকসেনাদের অস্থায়ী ক্যাম্প দখল নিয়ে এ জেলার স্বাধীনতা স্বরূপ প্রথম পতাকা উত্তোলনের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। 

এরপর ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ জেলাকে স্বাধীন ও পাকহানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা স্বত্তেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পারিবারিক দাবির মুখে রাজনীতির পরিবর্তে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করাসহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন দেশের প্রখ্যাত কৃষি বিজ্ঞানী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তবে কর্মক্ষেত্রেও যথাযথ যোগ্যতা স্বাক্ষর রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। 

বর্তমানে দুই ছেলে ও এক কণ্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পাশাপাশি এক ছেলে ও মেয়ে ঢাকায় অধ্যায়নরত এবং সহধর্মিনী শিরিনা আক্তার ভানু ঢাকার একটি সরকারী বিশ^বিদ্যালয় কলেজে অধ্যাপনা পেশায় লিপ্ত রয়েছেন।

এর পরবর্তীতে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে আসেন নতুন মুখ। ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মৃত্যুতে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন তারেক রহমানের সহযোগী ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। 

তৎকালিন বিএনপি নেতা অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্টু মনোনয়ন না পেয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান কৃষিবিদ ড.আব্দুর রাজ্জাক। ঐ নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক নৌকা) ৯৮,৪১৩ ভোট পেয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। 

বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ধানের শীষ) পান ৪০,৯৭২ ভোট অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্ট পান ৫৩,৫৩৯ ভোট। ড.আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামীলীগ সরকারের প্রথমেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা) প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে (ধানের শীষ) পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিন হয়ে ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশনের দলের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। 

দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইস্তেহার প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা দিয়ে আওয়ামী লীগকে মধুপুর ও ধনবাড়ী তথা টাঙ্গাইলে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করিয়ে শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদের্শের সৎ, কর্মঠ ও জনপ্রিয় এ নেতার দুরদর্শিতায় টাঙ্গাইলের সকল জনপ্রতিনিধি এখন আওয়ামী লীগে। 

তৃণমূল নেতা-কর্মিদের সুঃখ-দুঃখের ভাগিদার আব্দুর রাজ্জাক এমপি কালক্রমে সবপর্যায়ের নেতা-কর্মিদের আস্তা ও ভরসার প্রতীক এবং শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন। শুধু স্থানীয় রাজনীতিতে নয় জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শেখ হাসিনার বিশ্বস্থতা অর্জন করেছেন। আর এ কারণেই তাকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রণয়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। 

এছাড়া তিনি সততা, নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে বিগত দিনে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব ও বর্তমানে অর্থ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মধুপুর ও ধনবাড়ী গ্রাম থেকে উপজেলা শহর পর্যন্ত রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ অবকাঠামোখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। 

মধুপুর-ধনবাড়ী তথা টাঙ্গাইলের মানুষ তাকে উন্নয়নের রূপকার হিসাবে আখ্যায়িত করেন। দশম সংসদ নির্বাচনেরর পর তাকে মন্ত্রীত্ব না দিলেও তিনি আগের মতই উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। 

তিনি গ্রামে-গ্রামে বিদ্যুৎসহ মধুপুরÑধনবাড়ীতে শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রী পরিষদে এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কনিষ্ট সহচর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী টানা ৪ বারের নির্বচিত সংসদ সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপিকে মন্ত্রী দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মধুপুর ও ধনবাড়ীবাসী। 

ড. মো. রাজ্জাক এবার নৌকা প্রতীকে প্রায় পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামানত হারিয়েছেন। টানা ৪র্থ বার বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় সাবেক এই মন্ত্রীকে পুনরায় মন্ত্রীত্ব দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকা মধুপুর ও ধনবাড়ীর মানুষকেও সম্মানীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী এমনটা মনে করেন সচেতন মহল।

এ নিয়ে ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ও দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন তালুকদার বলেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরীক্ষিত রাজনীতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। যার সাফল্যেই তিনি এবারও মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন।

মধুপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফ আহমেদ নাছির বলেন, তিনি মধুপুর-ধনবাড়ীতেই নয় সারা দেশেই উন্নয়নের ব্যাপক অবদান রেখেছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও দলীয় সকল কর্মকান্ডে পরিচালনার পাশাপাশি ইতোপূর্বে প্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের সফল পরিচালনার ফল স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন।

সাবেক শিক্ষক শমসের আলী মাষ্টার বলেন, সততা, নিষ্ঠা, উন্নয়ন, অগ্রগতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, আইন প্রণয়ন সবক্ষেত্রেই ড. রাজ্জাকের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে নবাগত সরকারের নতুন মন্ত্রী সভায় তার মত সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদকে জননেত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ধনবাড়ী উপজেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ আবু এহসান খোকন বলেন, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক রাজনীতিবিদ হিসেবে স্বচ্ছ ও পরিছন্ন। তিনি একাধারে একজন কৃষিবিদ, কৃষি বিজ্ঞানী, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক। বর্তমান মন্ত্রীসভায় বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ এর ঠাঁই পাওয়ায় দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে নবাগত সরকারের কৃষি মন্ত্রীত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়ে আমাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সততা, নিষ্ঠা ও কাজের মূল্যায়ন সম্মানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির জনক কণ্যা শেখ হাসিনার দেয়া দায়িত্বভার সফল করতে তিনি সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকবেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
⇘সংবাদদাতা: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

, , , , ,

0 মন্তব্য(গুলি)

Comments Please