প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিজ্ঞা

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিজ্ঞা
সেবা ডেস্ক: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকা দলটি এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলো। বিগত দুই মেয়াদেই দলটি বাংলাদেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধন করেছে। এছাড়াও ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেও আওয়ামী লীগ জনপ্রত্যাশার বাস্তবায়ন ঘটায়। ফলে এবার সরকারের প্রতি জনসাধারণের প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী। আর টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগও চাইছে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে।

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার কথা বারংবার উচ্চারিত হয়েছে সরকারের শীর্ষমহল থেকে। এজন্য সরকার গঠনের শুরু থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গৃহীত এবং গৃহীতব্য কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পৃথক দুটি চিঠি পাঠিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে; যা নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০১৮তে উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের বিগত ১০ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রত্যেকটি খাতেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রায় পুরোটাই বাস্তবায়ন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ সময় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রাস পেয়েছে দারিদ্র ও বেকারত্বের হার। চলমান উন্নয়ন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বর্তমান মেয়াদেও বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচতি ইশতেহারে; যা নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করতে চাইছে নতুন সরকার।

সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা অধিশাখা-২ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে নির্বাচনি ইশতেহার-২০১৮তে দেওয়া প্রায় ১৮টি প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, বেসরকারি খাতে নতুন মূলধন সৃষ্টির হার বৃদ্ধি, জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর সুবিধাকে কাজে লাগানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, কাঙ্খিত রাজস্ব আদায়, বাজেট প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন এবং অর্থ পাচার রোধ করা, অবকাঠামো রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিশু কল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, আর্থিক খাতের লেনদেনকে ডিজিটাল করার প্রয়াস অব্যাহত রাখা, অ-কৃষি খাতের সেবার পাশাপাশি হাল্কা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা, দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান বিষয়ে নিজস্ব বিধি ও রীতি অনুযায়ী কাজ করার অধিকার অব্যাহত রাখা, নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে তাদের জন্য আলাদা ব্যাংকিং সুবিধা, ঋণ সুবিধা, কারিগরি সুবিধা এবং সুপারিশসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বরাদ্দ দ্বিগুণ করা, সব ক্ষুদ্র ঋণে নারীর অগ্রাধিকার প্রদান, সহজ শর্তে সময়মতো কৃষিঋণ প্রদান, বিশেষ করে বর্গাচাষির জন্য জামানতবিহীন কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, খাদ্য শস্যের পাশাপাশি আলু, শাকসবজি, তৈলবীজ, মশলা, নানা জাতের ফলমূল, ফুল, লতাপাতা গুল্ম, ঔষধি ও ফসল উৎপাদনে বর্তমান প্রদত্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, ছোট-মাঝারি আকারের দুগ্ধ এবং পোলট্রি খামার প্রতিষ্ঠা ও মৎস্য চাষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনমতো ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করে তা অব্যাহত রাখা।

এর আগে ৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে গভর্নর ফজলে কবির বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ঋণসহ ব্যাংক জালিয়াতি কঠোর হস্তে দমন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঋণ গ্রাহক ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পদ গচ্ছিত রাখা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণসহ ১২ রকমের তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে; যা নির্বাচনি ইশতেহার ২০১৮তে উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে অন্য যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো ব্যাংকিং খাতের সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালীকরণ, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, দেউলিয়া আইন বাস্তবায়নে টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি নির্ণয়করণ, বাজার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ে দক্ষতা এবং গ্রাহকের প্রতি ব্যাংকের দায়বদ্ধতা পরিবীক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) আওতা বৃদ্ধিকরণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা মোবাইল ব্যাকিংয়ের অগ্রগতি, আর্থিক খাতের লেনদেনে ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৫-১৭ বাস্তবায়ন করা।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার সব সদস্যই নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

, , ,

0 মন্তব্য(গুলি)

Comments Please