
সেবা ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের করগাঁও ইউপির কৃষক হাবিবুর রহমান। দালালদের অপতৎপরতার ভয়ে তিন বিঘা জমির উৎপাদিত ৯০ মণ ধান নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় কষ্টে উৎপাদিত ধান সরাসরি সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করেছেন। ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় তৃপ্ত তিনি।
মো. হাবিব বলেন, বাজারে দালালরা প্রতি কেজি ধানের মূল্য ১৫ থেকে ১৬ টাকার বেশি দিতে চায় না। তাদের দাপটে ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে ২৬ টাকা কেজি দরে তিন টন ধান বিক্রি করতে পারায় খুশি।
শুধু হাবিব নয়, নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে আসা কৃষক খালেদ মিয়া, কৃষক খুর্শেদ মিয়া, আরিফ উল্লাহ, আব্দুল হাদী, হারুন মিয়া, মুকিত মিয়া, রেজা আহমেদ, খালেদ মোশারফ ও কামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজ কৃষক এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের কাছে বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি।
তারা বলেন, আমরা এক হাতে ধান দিয়েছি, অন্য হাতে চেক পেয়েছি। কোনো ধরনের ভোগান্তি হয়নি। ধান বিক্রির টাকা পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে।
নবীগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা দরে ৫৩৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরপর কৃষকদের তালিকার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রত্যেক ইউপিতে একজন করে উপ-সহকারী নিযুক্ত করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়।
১৯ মে নবীগঞ্জে সরকারি পর্যায়ে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন ইউএনও তৌহিদ-বিন-হাসান। পরে ২৮ মে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে কৃষকদের বাড়ি থেকে ধান কেনেন হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী। এরপর থেকেই তালিকাভুক্ত কৃষকরা নমুনা পরীক্ষা করে ধান বিক্রি করেন।
কৃষক মো. আব্দুল হাকিম জানান, বাজারে প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রিতে লাভবান হয়েছি। এ দামে ধান কিনলে কৃষকরা আরো উপকৃত হবে। পাশাপাশি দুর্ভোগও কমবে।
কৃষক আব্দুল মুকিত বলেন, ৫৮ মণ ধান সরকারিভাবে বিক্রি করতে পেরে লোকসানের হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। কোনো ঝামেলা ছাড়াই ধান বিক্রি করেছি। সরকার যদি প্রতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনে তাহলে কৃষকরা এগিয়ে যাবে।
কৃষক আহমেদ রেজা বলেন, এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মাত্র দুই টন ধান বিক্রি করতে পেরেছি। গত বছরের ধান ঘরে রয়েছে। আরো ধান বিক্রি করতে পারলে ভালো হতো।
নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাঠানো কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ধান কেনা হচ্ছে। ৫৩৮ মেট্রিক টনের মধ্যে একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্ব্বোচ তিন টন করে ২২০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ৫৩৮ মেট্রিক টন ক্রয় করতে পারব।
হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। এ সরকার কৃষি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই কৃষি বান্ধব সরকার চলতি মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।