গাইবান্ধায় পৃথকস্থানে দুটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

গাইবান্ধায় পৃথকস্থানে দুটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভেলারায় পাইকপাড়া গ্রামে ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের শীতল গ্রামে  নিজ শয়ন ঘরের চালের সাথে গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় পৃথকস্থান হতে আজ ২৪ ফেব্রয়ারী  সোমবার দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভেলারায় পাইকপাড়া গ্রাম থেকে আজ ২৪ ফেব্রয়ারী  সোমবার ইদ্রিস আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইদ্রিস আলী ভেলারায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মৃত মনির উদ্দিন ওরফে মনিয়ার ছেলে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়,গতকাল রোববার রাতে কে বা কারা ইদ্রিস আলীকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানায়, রাত ১২টার দিকে কয়েকজন লোকের সাথে মাঝিপাড়া (হিন্দু ধর্মালম্বিদের অষ্টপ্রহর অনুষ্ঠান স্থল) এলাকায় তাকে দেখা যায়। কিন্তু তিনি রাতে বাড়ি ফিরে আসেননি। সোমবার ভেলারায় পাইকপাড়া গ্রামে আয়নুল ও ময়নুলের বাড়ির পাশে গলায় মাফলার প্যাচানো অবস্থায় ইদ্রিস আলীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে নিহতের পরিবারকে খবর দেয়। নিহতের পরিবারের লোকজন এসে ইদ্রিস আলীকে সনাক্ত করে। পরে সুন্দরগঞ্জ থানায় খবর দেয়া হলে থানা থেকে পুলিশ এসে ইদ্রিস আলীর লাশ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ নিহত ইদ্রিস আলী পকেট থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, গায়ের জ্যাকেট, মাফলারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের দাবি নিহত ইদ্রিস আলীর মোবাইল ফোনের কললিষ্ট চেক করলেই ঘাতকদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহরিয়ার বলেন, ইদ্রিস আলীর স্বাভাবিক মৃত্যু মনে না হওয়ায় মৃত্যুর কারণ জানতে তার লাশ পোষ্টমর্টেম করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে জেলার গোবিন্দগঞ্জে নিজ শয়ন ঘরের চালের সাথে গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের শীতল গ্রামে।
গ্রামবাসী সূত্রে জানাগেছে, শীতল গ্রাম সরকারপাড়ার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে রেজাউল করিম (৪০) একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা মুন্নি বেগমকে প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে বিয়ে করে। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৩টি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এরই এক পর্যায়ে শ^শুরবাড়ীর লোকজনের সাথে রেজাউলের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিবাদ দেখা দেয় এবং শ^শুরবাড়ীর লোকজন তাঁকে প্রায়ই মারধোর করতো। বাধ্য হয়ে রেজাউল ঢাকায় চলে যায় রিক্সা চালানোর জন্য। গত রোববার সে ঢাকা থেকে বাড়ী ফিরে এসে স্ত্রী মুন্নি বেগমের অনুপস্থিতিতে খাওয়া দাওয়া শেষে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। সোমবার সকালে গ্রামবাসীরা তাঁকে নিজ শয়ন ঘরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। বিষয়টি আতœহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, মৃত রেজাউলের দীর্ঘদিন যাবত শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের সাথে মনোমালিন্য চলে আসছিল। তবে ময়নাতদন্ত রির্পোট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,