কেমন হবে বাংলার জনগনের স্বপ্নের মেট্রোরেল

কেমন হবে বাংলার জনগনের স্বপ্নের মেট্রোরেল

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই ধারা আরো বেগবান করতে মেট্রোরেলের প্রথম কোচ এখন ঢাকায়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপোতে সোমবার নতুন কোচের মোড়ক খোলা হয়। যদিও এই কোচটি সরাসরি মেট্রোরেলে সংযুক্ত করা হবে না। এটি মূলত প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানান, জাপানের মিতসুবিশি ও কাওয়াসাকি থেকে তৈরি এ কোচটি মূল কোচগুলোর আদলেই তৈরি করা হয়েছে। মূলকোচগুলো যেভাবে তৈরি করা হবে এটিও সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে।

কেমন হবে মেট্রোরেল, কি উপকার পাবো, কতোটুক নিরাপদ? স্বপ্নের মেট্রোরেলটি নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহ ও প্রশ্নের কমতি নেই। মেট্রোরেলের বগিগুলোর দুইপাশে দুটি দরজা থাকবে। যেপাশে স্টেশন থাকবে সেপাশের দরজাই খুলবে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি দরজায় একাধিক সেন্সর থাকবে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী বা হুইলচেয়ারে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকবে। প্রায় দুই হাজার যাত্রী একসঙ্গে একেকটি ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবে। সে অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। প্রথমে আলাদা আলাদাভাবে লাইন উদ্বোধনের কথা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একযোগে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো লাইনের উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক আরো জানান, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপোর পাশে ভিজিটর সেন্টার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শন কেন্দ্রের ভেতরেই রাখা হবে নমুনা ট্রেনটি। সেখানেই দর্শনার্থীদের টিকেট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, ট্রেন থেকে নামা- এসব বিষয়ে ধারণা দেয়া হবে।

যাত্রীদের ধারণা দিতে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, রাজধানীর রাস্তার মাঝ বরাবর উপর দিয়ে চলবে মেট্রোরেল। স্টেশন হবে প্রায় দোতলা সমান উঁচু। বিনা টিকেটে কেউ ভ্রমণ করলে গুণতে হবে জরিমানা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে স্বল্প সময়ে মতিঝিলে পৌঁছানো যাবে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনে স্টেশন থাকবে ১৬টি। প্রতি চার মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল। প্রতি ঘণ্টায় যাত্রী পরিবহন করবে প্রায় ৬০ হাজার। এই রেলপথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। মোট টাকার ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র প্রকল্প ঋণ। আর বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।

মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রথম ধাপে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতি ট্রেনে থাকবে ছয়টি বগি। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে ট্রেনগুলো। একটি স্টেশনে ট্রেন অবস্থান করবে ৪০ সেকেন্ড।

১৬টি স্টেশন থাকবে উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,