রৌমারীতে ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের তোড়ে বিলীন শহর রক্ষার বাঁধ

S M Ashraful Azom
রৌমারীতে ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের তোড়ে বিলীন শহর রক্ষার বাঁধ
শফিকুল ইসলাম: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর পুর্বে ভারত, পশ্চিমে ১৬টি নদ-নদীর কড়াল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসা ৯৭ বর্গ কিলো মিটার আয়তন জুড়ে একটি  ছোট্র উপজেলা রৌমারী। একমাত্র ভারতীয় পাহাড়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসি থাবায় সর্বশান্ত এখানকার মানুষ। ভারতীয় পাহাড়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্রের বন্যার পানির ছোবল থেকে রক্ষা পেতে উপজেলাকে ঘিরে ক্ষুদ্রপানি সম্পদের নিয়ন্ত্রনাধীন শক্তিশালী একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। যার নাম করণ করা হয়েছে ফৌজদারী বেড়িবাঁধ। বাঁধটির গুরুত্বের সাথে মিল করে নাম রাখা হয়েছে। বাঁধের ভিতরে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ীসহ নানা স্থাপনা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে. রৌমারীর থানা মোড় হতে চাক্তাবাড়ি ডিসি সড়ক পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ফৌজদারী বেড়ি বাঁধটির বেহাল দশা।

ক্ষুদ্র পানি সম্পদের বেড়িবাঁধটি (পাবসস) কমিটির ৩৭৭ জন সদস্য ও ৫ হাজার জন উপকার ভোগীর মাধ্যমে ২০০৫ সালে ১৮ লাখ টাকা, ২০১৩ সালে ৭ লাখ, ২০১৬ সালে ২৫ লাখ ও ২০১৭  সালে ৫ লাখ  টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে ফৌজদারী বেড়ি বাঁধটি দফায় দফায় সংস্কার করা হয়। বাঁধটি নির্মানের ফলে বাঁধের পূর্ব পাশ্বে প্রায় ১০ হাজার একর জমির ফসল  বন্যার পানির ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ওই বাঁধ মেরামতে কোন প্রকার বরাদ্দ না দেওয়ায় বাঁধটি ঝড় বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়ে।

এই ২ বছরে বাঁধটিতে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে শহররক্ষা বাঁধটি সোনাভরি নদী ও ব্র্হ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হওয়ায় প্রচন্ড ঝুকিতে রয়েছে। যার ফলে ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের তীব্র ¯্রােতের তোড়ে বাঁধটি চাক্তাবাড়ি স্কুলের সামনে ৩০ মিটার ও আলী আকবরের  বাড়ির পশ্চিমাংশে প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গভীরতার সৃষ্টি হয়।

কিন্ত আশায় গুড়ে বালি, কৃষকের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম,মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো কষ্টার্জিত সোনার ফসল সর্বনাশা পাহাড়ী ঢলের তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। ফৌজদারী বেড়িবাঁধটি রৌমারী উপজেলা শহর রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বাঁধটি উপজেলা শহর থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে। গত বন্যায় বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মুহুত্বে নষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার একর জমির ফসল। বসত ভিটে হাট-বাজার ও উপজেলা চত্বর পানিতে তলিয়ে যায়। পানি বন্দি মানুষ, গবাদি পশুসহ ডিসি সড়কে আশ্রয় নেয়। বাঁধ ভাঙ্গার ফলে মাসাধিক কাল সময় মানবেতর জীবন যাপন করে পানি বন্দি মানুষ।

তবে বাঁধটি রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসন, সাধারণ মানুষ রাতদিন চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি।
ফৌজদারী বেড়ি বাঁধটিকে উপজেলা শহরে প্রবেশের গুরুত্ব পূর্ণ বাইপাস সড়ক বলা যেতে পারে। কারণ প্রতিনিয়ত মুল সড়কে যানযট থাকায় হাটুরে, সাধারণ পথ যাত্রী, স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী এই পথেই স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করে থাকে। আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে বাঁধটি মেরামত না করলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে এই অঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষ।

এব্যাপারে ওই বাঁধের ক্ষুদ্র পানি সম্পদ (পাবসস)’র সমবয় সমিতির  সভাপতি মোঃ রফিক উদ্দিন জানান, ফৌজদারী বেড়িবাঁধটি রৌমারী উপজেলা রক্ষা বাধ। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে খুব সহজেই অঞ্চলটি প্লাবিত হবে। তাই বর্ষা মৌসুমের পূর্বে বাঁধটি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ক্ষুদ্র পানি সম্পদ সমবয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন. আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে বাঁধটি মেরামত না করলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে এই অঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষ।

এবিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ফৌজদারী বেড়ি বাঁধটি উপজেলা শহর রক্ষার একমাত্র গুরুত্বপুর্ণ বাঁধ। বাঁধটি গত বন্যায় ২টি জায়গায় ভেঙ্গে যায়, ভাঙ্গা দুটি মেরামতের জন্য সরেজমিন স্বচিত্র প্রতিবেদন কুড়িগ্রাম ও ঢাকায় প্রধান অফিসে পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, গত  বন্যায়, ফৌজদারী বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায়  বাঁধের ভিতরে সমস্ত বাড়ি-ঘরে পানি উঠে ও হাট-বাজার উপজেলা চত্ত¡রে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বর্ষা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top