মাদকমুক্তির অঙ্গীকারনামা দিলো হাইওয়ে পুলিশের

মাদকমুক্তির অঙ্গীকারনামা দিলো হাইওয়ে পুলিশের

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো একটি হলো হাইওয়ে পুলিশ। দেশের সব হাইওয়ে রাস্তাগুলোতে দায়িত্ব পালন করে থাকে তারা। বলা হয়ে থাকে- কক্সবাজার, টেকনাফসহ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে মাদকের যে জাল দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, তার একটি বড় অংশ হাইওয়ে ও আঞ্চলিক সড়ক হয়ে স্থানান্তর হয়। পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত যানসহ নানাভাবে মহাসড়ক হয়েই ইয়াবা, ফেনসিডিল, হোরোইনসহ নানা ধরনের মাদক রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় প্রায় প্রতিদিন যাচ্ছে। মাদকরোধে তাই হাইওয়েতে দায়িত্বপালনকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি একাধিক কনফারেন্সে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ মাদকের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে যুক্ত বা অর্থের বিনিময়ে মাদক কারবারিদের সহায়তা করলে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে তার এই বার্তা পুলিশের সব ইউনিটে পৌঁছেছে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ মহাপরিদর্শকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরাই প্রথম ইউনিট যারা মাদকমুক্তির ব্যাপারে এমন অঙ্গীকারনামা দিয়েছি। আমরা চাই, পুলিশ আগে নিজেরা পুরোপুরি শোধরাক। পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে কোনোভাবে জড়াতে পারবে না। কনস্টেবল থেকে শুরু করে আমি নিজেও এই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছি। হাইওয়ে মাদকমুক্ত থাকবে, সারাদেশকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হবে।'

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তানভীর হায়দার চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়ালে তাদের নৈতিক মনোবল হারায়। তাই এ ধরনের অঙ্গীকারনামা ইউনিটপ্রধানের কাছে আমরা প্রদান করি।'

মাদকের বিরুদ্ধে আইজিপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। দুই হাজার ৮৬২ সদস্যের এই ইউনিটের প্রত্যেক সদস্য বৃহস্পতিবার লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে তারা ইউনিটপ্রধানের মাধ্যমে ওই অঙ্গীকারনামা পাঠিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি মল্লিক ফখরুল ইসলামের কাছে। লিখিত অঙ্গীকারনামায় তারা বলেন- মাদক সেবন, বিক্রয়, সরবরাহ ও মাদক সংশ্নিষ্ট কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট নয়। ভবিষ্যতেও থাকবে না।

ইউনিটের প্রায় তিন হাজার সদস্যের এই অঙ্গীকারনামা পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছেও তারা পাঠাবে। আইজিপির আহ্বানের সঙ্গে একাত্ম প্রকাশ করে হাইওয়ে রেঞ্জ মাদকমুক্ত দেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অফিসার, ফোর্স, নন-পুলিশসহ সব সদস্য মাদকমুক্ত পুলিশ তথা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

মহাসড়ক ও সড়কের নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ গঠন করা হয়। তাদের ওয়েবসাইটে এ ইউনিটের পাঁচটি ভিশনের কথা রয়েছে। সেগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং মানুষের জীবন রক্ষা করতে পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রতিবন্ধকতা অপসারণপূর্বক মহাসড়কে যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন করা। চালক, চালকের সহকারী এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব পালন; মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ নৈতিকতা, সৌজন্যমূলক আচরণ এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করা হবে।

জানা গেছে, পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এরই মধ্যে সব ইউনিটের সঙ্গে কনফারেন্স করেন। সেখানে তার বার্তা ছিল- জনগণের পুলিশ হতে হলে পুলিশকে মাদকমুক্ত হতে হবেই। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক খাবে না, মাদক ব্যবসা করবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পুলিশ শুরু থেকেই নিবেদিত হয়ে কাজ করছে। এর গতি আরও বেগবান করে উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়তে চান আইজিপি।

পুলিশপ্রধান হিসেবে ড. বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচটি বিষয় সামনে রেখে পুলিশকে আরও সামনে দিকে এগিয়ে নিতে চান তিনি। এর মধ্যে একটি হলো- মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় পুলিশকে জোরালো ভূমিকা রাখা। যাতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। এর আগে সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


0 comments

Comments Please

আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য সেবা হট নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেবা হট নিউজ : সত্য প্রকাশে আপোষহীন