টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় উৎপাদন হবে চা

টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় উৎপাদন হবে চা


সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশে চা উৎপাদনকারী এলাকা বলতে আমরা সবাই সিলেট বিখ্যাত হিসাবে জানি। কারন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা সিলেটেই উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়াও চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, রাঙামটি এবং বান্দরবানেও চায়ের উৎপাদন হয়। এসব এলাকার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখিপুরে এই অর্থকরী ফসল চা উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই তিন উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ১ হাজার ৬ শত একর জমি রয়েছে, যেখানে চা চাষ করে ভালো টাঙ্গাইলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বাংলাদেশ চা বোর্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে ছোট পরিসরে চা চাষ বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে চা বোর্ড। এক হাজার ২৩৫ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণে ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার এ প্রকল্প এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির যাচাই-বাছাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চা বোর্ড জানায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও সামাজিক উন্নয়নের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বড় চা বাগান প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য ছোট পরিসরে চা চাষ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পঞ্চগড়ে প্রথম ছোট পরিসরে চা চাষ শুরু হয়। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলে আট হাজার ৬৮০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এ থেকে বছরে ৯৬ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়।

চা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি সারাদেশে চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। এতে দেখা গেছে, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়সহ বাইরে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল এবং কক্সবাজার জেলায় মোট এক লাখ এক হাজার ৭২ হেক্টর চা চাষযোগ্য জমি রয়েছে।

২০০৪ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এতে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া চা চাষাবাদের অত্যন্ত উপযোগী। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় এক হাজার ১২০ একর, শেরপুর জেলার শ্রীবর্দীতে এক হাজার ১৫০ একর, ঝিনাইগাতীতে এক হাজার ৮৫৫ একর ও নালিতাবাড়ীতে আড়াই হাজার একর, জামালপুরের বকশীগঞ্জে ৬০০ একর ও নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক হাজার ৭৭০ একর ও কলমাকান্দায় এক হাজার ৫০ একরসহ মোট ১০ হাজার ৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব। এর পর চা বোর্ড আরও একটি প্রকল্পের অধীনে এ অঞ্চলে জরিপ করে। গত বছর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ওই জরিপে দেখা গেছে, ময়মসিংহের মুক্তাগাছায় ৩০০ একর, ফুলবাড়িয়ায় ৫০০ একর, ভালুকায় ৪০০ একর ও টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৬০০ একর, ঘাটাইলে ৫০০ একর এবং সখীপুরে ৫০০ একর। এ এলাকায় আরও দুই হাজার ৮০০ একর জমিতে ছোট পরিসরে চা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচ জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব।


২০০৪ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এতে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া চা চাষাবাদের অত্যন্ত উপযোগী। টাঙ্গাইলের এই তিন উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ একর  জমিতে চা আবাদ সম্ভব।


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Dara Computer Laptops