পলাশবাড়ীতে রাস্তার কোন মাটি কাটা না হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন

পলাশবাড়ীতে রাস্তার কোন মাটি কাটা না হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন



আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের অবৈধভাবে দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে নানা প্রকল্পের অনিয়মের চিত্র দৃশ্যমান হওয়ার পরে এখনো বহায় তবিয়তে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ। অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে বিল উত্তোলন করার অভিযোগ চিত্র দৃশ্যমান হওয়ার পরে অবৈধভাবে পরিষদ পরিচালনা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া জনমনে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। প্রকল্পের কাজ না করে বিল উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করে সচেতন মহল।

স্থানীয় সচেতন মহলের দেওয়া তথ্য মতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের প্রথম পর্যায়ে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন কাবিখা প্রকল্পের আওতায় অত্র ইউনিয়নের সুলতানপুর বাড়াইপাড়া পাকার মাথা হতে পুরাতন কুশের সেন্টার পর্যন্ত রাস্তায় কর্মসূচীর শ্রমকি দিয়ে ছেলা ছেলি করে রাস্তার মাটি রাস্তায় দিয়ে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪ শত টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। একই বছরের অত্র ইউনিয়নের প্রজাপাড়া আবুল কাশেম মেম্বারের বাড়ী হতে প্রজাপাড়া ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তায় কোন প্রকার কাজ না করে উত্তোলন করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। বিগত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের যোগসাজসে অত্র ইউনিয়নে ১৩২ টি প্রকল্পে অনিয়ম দূর্নীতি করার অভিযোগে গাইবান্ধা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। এছাড়াও ১৩২ প্রকল্পের মধ্যে আরো বেশকিছু এলজিএসপি-৩  প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম মির্জাপুর কবরস্থান কে ঘিরে একই স্থানে একই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ৪ টি প্রকল্প করায় রের্কড হয়েছে অনিয়মের। এছাড়া নওশা মেম্বার কর্তৃক নির্মাণকৃত ইউ ড্রেনটি অডিট আপত্তি হওয়ায় আবারো দায়সার কাজ করা হয়।


এ বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, রাস্তার গুলোতে রাতদিন পরে থাকে রিক্সা ভ্যান শ্রমিকগণ তারা বলতে পারবেন রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণের বিষয়ে আসলে গত বিশ উনিশ বছরে অত্র এলাকার রাস্তাঘাট গুলোতে কেউ কাজ করেনি। কাগজ কলমেই শুধু প্রকল্প গুলো সীমাবদ্ধ। স্থানীয় ভ্যান শ্রমিকগণ বলেন, কোন মতে রাস্তার মাটিই রাস্তায় দিয়ে সংস্কার। আমাদের নিত্য দিনের কষ্ট যা তাই। অত্র এলাকার মানুষের মতো অভাগা সারাদেশে আর নাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা।


এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু বলেন, আসলে আগামীতে ইউপি নির্বাচন এ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রার্থী হিসাবে ইত্যি মধ্যে মাঠে নেমেছে। আমি দীর্ঘদিন হলো আদালতের মামলা জটিলতার কারণে অত্র ইউনিয়নের দায়িত্বপালন করছি। এলাকার মানুষের মানুষের জন্য কাজ করেছি। সকলের মন জয় হয়তো করতে পারিনি তবে আমার এলাকায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বিধায় আজ তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলা ও অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি বলেন ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে যে সকল কাজ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক তদারকি করার মধ্যদিয়ে বরাদ্দে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে বিধায় সেখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসে না। তবে কাজের ক্ষেত্রে সামান্য কমবেশী হতে পারে বলে স্বীকার  করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন জিয়াউল হক জুয়েল সে পৌর এলাকা হতে অত্র ইউনিয়নে ভোটার হয়েছেন নির্বাচন করবেন বিধায় তিনি আমাকে হেয় ও হয়রানি করতে এসব করছেন। তিনি প্লাবন হত্যা মামলাসহ সন্ত্রাস নাশকতা মামলার অন্যতম আসামী থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল।


জিয়াউল হক জুয়েল বলেন,অবৈধভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনাকারী চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ। তাদের অনিয়মের মাত্রা সকল কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। অত্র ইউনিয়নের সচেতন মহলের অনুরোধে উক্ত মামলায় আমি বাদী হয়েছি আমার সাথে আমার সাধারণ জনগণসহ সচেতন মহল রয়েছে। তারা সার্বক্ষনিক অভিযোগ গুলোর সত্যতা তুলে ধরবেন। আমি অভিযোগ গুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এবং সঠিক তদন্তের স্বার্থে অবৈধভাবে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অপসারণ দাবী করছি। 

শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।