বাঁশখালীতে ৫০ বছরেও হয়নি নতুন ইউপি ভবন, ভাড়া দোকানে চলে কার্যক্রম

বাঁশখালীতে ৫০ বছরেও হয়নি নতুন ইউপি ভবন, ভাড়া দোকানে চলে কার্যক্রম
ছবি: পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন 


শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাঁশখালী উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভূতুড়ে ভবনটি যে কোন সময় ধ্বসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাধিনতা পরবর্তী ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি স্থাপন হলেও অর্ধযুগের বেশী সময়কাল আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় থাকার অনুপযোগী ঘোষণা করেন। বর্তমানে বাঁশখালী বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন দোকানঘর ভাড়া নিয়ে একটি কক্ষে শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল কাজ চলমান আছে। ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলে চানা গেছে।

স্থানীয় নুর মুহাম্মদ, বেদারুল ইসলাম, হামিদ উল্লাহ বলেন ভবন না থাকার কারণে আমাদের নাগরিক সেবা পেতেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় বিচারিক কার্যক্রম বসানো হয় অন্য কোন প্রতিষ্টানে। ভবন নির্মাণের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় আমাদেরকে আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তাদের কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি, সারা দেশে যখন ডিজিটাল ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে আমরাও চাই আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল হউক।

শিলকূপ ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ ছফা বলেন, 'স্বাধিনতার পরে বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নতুনভাবে নির্মিত হলেও আমাদের পরিষদ ভবনটির কোন সুরাহা হয়নি। এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার অবগত করেছি। ভাড়া দোকানে পরিষদের নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।'

শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মু. রহিম উল্লাহ জানান, 'তিনি ৬ বছর আগে পরিষদে যোগদান করেছেন। যোগদানের সময় দরজা জানালায় মরিচা ধরেছে। ছাদের উপর থেকে পালেস্তরা ঝড়ে পড়ে লোহার রড দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ছে। ভবনটির বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে সরকারের দেয়া আসবাবপত্র,  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মেশিন বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে ভবণের সামনে একটি দোকানঘর ভাড়া করে অফিসিয়াল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে নাগরিক সেবা দিতে ব্যাহত হচ্ছি।'

শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. মহসিন জানান, ' আজ থেকে ৪৭ বছর আগে শিলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আরএস খতিয়ানমূলে মনকিচর মৌজায় শামশুল আলম তালুকদার ও রফিকুল আলম তালুকদার নামে দুই ব্যক্তি ৮০ শতক (২ কানি) জমি দান করেন। যার ৭শতক জমিতে পরিষদের ভবণটি নির্মিত হয়। প্রায় অর্ধযুগের বেশি সময় আগে ভবণটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ভূমির মালিকেরা দান করা জমির দখল না ছাড়ায় ৭শতক জায়গায় নতুন ভবণ নির্মাণ করা যাচ্ছেনা। ২৬ শতক (১৩গন্ডা) জায়গা হলেই একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা সম্ভব।'

উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, 'পরিষদের ভূমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান ভূমিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রকৌশলরঅফিসে জমা দেওয়ার পর যাছাই-বাছাই শেষে ভবণ নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।'



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।