তিনদিনের টানাবৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কৃষকের কাটা ধান

তিনদিনের টানাবৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কৃষকের কাটা ধান
ছবিঃ শিলকূপের কৃষক মুহাম্মদ ফরহাদের মুহরি বিলে কাঁটাধানের বিচালি ভাসছে পানিতে। 



শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: তিনদিনের টানাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে প্রধান ফসল রোপা আমন ধানসহ ধন্যাপাতা, রসুন, পেঁয়াজ ও শাকসবজির ক্ষেত। 

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাঁশখালী উপজেলার কয়েক হাজার চাষি। ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এই বৃষ্টিতে মিলছে না শ্রমিক। ফলে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে ধান।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন। 

ফলনও ভাল হয়েছে। উপজেলার কিছু কিছু অঞ্চলে ধান কাটা হয়েছে। বেশ কিছু অঞ্চলে ধান কাটা অবস্থায় পানিতে তলিয়েছে। আবার কিছু জমির ধান কাটা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, গন্ডামারা-বড়ঘোনা, চাম্বলের বাচ্চইন্যা বিল, শিলকূপের মুহরি বিল, উত্তর বিল, জলদী, বৈলছড়ি, কালীপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশকয়েকটি বিলে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কাটা ধান। 

অনেক ক্ষেতে ধান পচে যাচ্ছে। অনেকে টানা বৃষ্টির কারণে ধানের আশা ছেড়ে দিয়ে অন্তত বিচালি (খড়) যাতে পাওয়া যায় সে চেষ্টায় ব্যস্ত কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করতে সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক খরচ আরও প্রায় তিন হাজার টাকা বেড়ে ১৫ হাজারে ঠেঁকছে। গোখাদ্য বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার্য বিচালি বা খড় পচে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে।

শিলকূপ ইউনিয়নের কৃষক মু. ফরহাদ বলেন, সাধারণত এক বিঘা (৪৬ শতক হিসেবে) জমিতে ৩০ মণ হারে ফলন হয়। 

সেখানে বৃষ্টির কারণে পানিতে ডুবে যাওয়ায় আট থেকে ১০ মণের মতো ধান ঝরে যাবে। বিচালিও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। 

অাবহাওয়ার যে অবস্থা দেখছি হয়তো বৃষ্টি আরো কয়েকদিন থেকে যাবে। এতে ঘরে ধান তোলার আশা ছেড়ে দিয়েছি। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের কাটা ধানগুলো পানিতে ডুবে গেছে। 

এখন প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক বেশি লাগবে। তাছাড়া বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার মতো শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।’

অপর কৃষক মু. কামাল বলেন, তিনদিনের বৃষ্টিতে বিচালির ক্ষতি হবে। এই ধান থেকে পরে বীজও করা সম্ভব হবে না। ধান কলো হয়ে যাবে এবং ভাতও খাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় সরকার যদি কোনো অনুদান দেয়, তাহলে হয়তো কিছু উপকার হবে।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী মাঠে আসেননি। তারা কোনো পরামর্শও দেননি।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু সালেক বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী উৎপাদন হয়েছে। 

তবে টানাবৃষ্টিতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জমির পানি দ্রুত বের করে দিলে এবং আবহাওয়া ভালো হলে উল্টেপাল্টে এসব ধান শুকালে ক্ষতি কিছুটা কম হবে। 

তিনি আরো বলেন, বাঁশখালী উপজেলায় আগামীতে বোরো আবাদ যারা করবে তাদের প্রায় ১০ হাজার ৩শত কৃষককে প্রত্যেককে ২কেজী হাইব্রিড ধানের বীজ এবং যারা উপশি জাতের বীজ পাবে তাদেরকে ৫কেজী বীজধান, ১০ কেজি বিএপি, ১০ কেজি এমপিও সার দেওয়া হবে।

এদিকে টানাবৃষ্টিতে যে সকল কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ক্ষয়-ক্ষতির রেকর্ড করে তালিকা পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।




শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।