আ.লীগ নেতা রানাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সংবাদের পর যুদ্ধাপরাধীর পরিবারসহ একত্রিত তারা

আ.লীগ নেতা রানাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সংবাদের পর যুদ্ধাপরাধীর পরিবারসহ একত্রিত তারা



নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা এলএলবি’কে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র ফাঁস ও হামলা চেষ্টার অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনা জানার পর নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘নন্দীগ্রামে আ.লীগ নেতা রানাকে হত্যার পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ফাঁস!’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে খেপেছেন অভিযুক্ত তিনজন। ফেসবুকে প্রতিবাদ বিবৃতি প্রকাশ করে অভিযুক্তরা নিজেরাই নিজেদের কাছে ক্ষমাও চাইছেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা এলএলবি বলেন, আমাকে হত্যা করার জন্য তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়েছে এবং কয়েক দফায় হামলার চেষ্টা করেছে। হত্যার জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে মদদ ও নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপির সাংসদ মোশারফ হোসেন, ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত ও যুদ্ধাপরাধীর ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, নাশকতা মামলার আসামী সাবেক জামায়াত নেতা ও বিএনপি নেতা প্রফেসর হাসনাত আলী। 

এলএলবি রানা অভিযোগ করেন, গত ৮ জানুয়ারী উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম শেষে বগুড়া ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে অচেনা ৮/৯জন মুখোশপরা অস্ত্রধারী যুবকেরা এলএলবি রানার প্রাইভেট জিপ ধাওয়া করে। 

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, মোটরসাইকেলে কালো জ্যাকেট এবং মুখোশপরা অচেনা যুবকরা আমাদের জিপগাড়ী থামানোর চেষ্টা করে। এই ঘটনা পরিকল্পিত, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। 

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সাংসদ মোশারফ হোসেন এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এলএলবি রানাকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আমাকেসহ যাদের নাম উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। সংবাদ বন্ধ করুন। অন্যথায় উকিল নোটিশ এবং মানহানী মামলা করবো। 

অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতিতে দাবি করেন, বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন এবং জামায়াত নেতা হাসনাত আলীর সাথে আমার নাম জড়িয়ে তাদের সঙ্গী হিসেবে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। 

এই বিবৃতি জিন্নাহ তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করার পরই উত্তেজিত হন প্রফেসর হাসনাত আলী। তিনি জিন্নাহকে চ্যালেঞ্জ করে ফেসবুকের মন্তব্যে লিখেন, ‘হাসনাত আলী জামায়াত করে প্রমান করতে পারবে তো জিন্নাহ? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিৎ। ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছো। 

হাসনাত আলীর এই মন্তব্যের জবাবে উপজেলা চেয়ারম্যান জিন্নাহ লিখেন, ‘আপনি কখনও জামায়াত শিবিরের সঙ্গে জড়িত নন তা জানি। আমার অজান্তে ভুল হয়ে গেছে সবার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ 

প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, হাসনাত আলীকে প্রধান আসামী করে বগুড়ার আদালতে ২০২১ সালে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় তাকে ইয়াবা হাসনাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ইয়াবা চক্রের তালিকায় হাসনাত আলীর নাম উল্লেখ করা হয়। ইয়াবা ব্যবসা চক্রে হাসনাতসহ ৪৪ জনকে শনাক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক শাখা। যা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছায়। 

অন্যদিকে আরেকটি সুত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ যুদ্ধাপরাধীর ছেলে। ২০১২ সালে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ডা. শফিউল আলম বুলুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী তালিকায় নাম থাকাসহ নানা অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে শফিউল আলম বুলুকে দল থেকে বহিস্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। মামলার বাদী বিবরণে উল্লেখ করেন, শফিউল আলম বুলু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে পাকবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ লুটপাট চালিয়েছে এবং উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের বামনগ্রামের ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। 

 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।