সরিষাবাড়ীতে টেন্ডার ছাড়াই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ বিক্রি

সরিষাবাড়ীতে টেন্ডার ছাড়াই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ বিক্রি



 : টেন্ডার ছাড়াই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বদরুল হাসানের বিরুদ্ধে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা প্রায় ২ লাখ টাকার অনেক পুরাতন বড় ৫টি গাছ টেন্ডার ছাড়াই বুধবার সকালে গাছগুলো কাটা হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হাসপাতাল থেকে ৪ টি গাছ কর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয়। ১ টি গাছ কেটে হাসাপাতালের পিছনের অংশে রেখে যায়। 

এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থাপনায় ২১ শয্যা আইশোলিশন ভবন নির্মানের বরাদ্ধ হয়। সেই জায়গার মাঝখানে ১ মেহগনি গাছ ও পার্শে এন্টি কড়ই গাছ থাকায়  ভবন নির্মাণে বেঘাত ঘটায় বন অফিসের মুল্য নির্ধারণ না করেই উপজেলা মাসিক যৌথ সভায় গাছ ২ টি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ২টি এন্টি কড়ই গাছ ও ৩টি মেহগনি গাছসহ ৫টি গাছ কাটা হয় । যার আনুমানিক মূল‍্য ২ লাখ টাকা। কিন্তু নামমাত্র মূল‍্য মৌখিকভাবে হাটবাড়ীর রশিদ ও কাঠিয়ারবাড়ীর কুদ্দুস এবং সাতপোয়া মকবুলের কাছে ১৫ হাজার ২শ টাকা বিক্রি করে ডা: বদরুল হাসান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা: বদরুল হাসান টেন্ডার ছাড়াই তাঁর বুধবার সকালে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোড়ের আশা টিম্বার কমপ্লেক্স এ গাছের ডোম গুলা এবং কলেজ রোড়ে বাবুল হাজীর সমিলে রাখা হয়। 

ব্যবসায়ী মকবুল বলেন, আমি গাছ কিনিনি।  আমার কাছে কুদ্দুস ও রশিদ ভ্যান চেয়েছিল গাছ নিয়ে দেওয়ার জন্য।  আমি শুধু ভ্যান নিয়ে এসেছি এবং গাছ গুলো দিয়ে এসেছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বদরুল হাসান বলেন, মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২টি গাছ কাটা হয়েছে।গাছ বিক্রি করে ১৫ হাজার ২শত টাকা মসজিদের তহবিলে দেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২টি গাছ কাটার জন্য উপজেলা মাসিক যৌথ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলতে  রেজুলেশনের মাধ্যমে অনুমতি নেয়া হয়েছে। ২টি গাছের অনুমতি যদি নেওয়া থাকে তাহলে ৫ টি গাছ কাটা হলো কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন,  ২ টির বেশি গাছ কেটে থাকলে আমি সরোজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটি গঠন করব। 

কথা হলে উপজেলা বন অফিসের ফরেস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

 মোঃ সরওয়ার জাহান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা ।  আমরা যদি চিঠি পেতাম তাহলে পরিমাপ করে মুল্য নির্ধারণ করে দিতাম। হাসপাতালের কতৃপক্ষ বিষয়টি বলতে পারবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পাঠান বলেন, ভবন নির্মাণ হওয়ার কারনে ২ টি গাছ কর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।  যদি বেশি কেটে থাকে তাহলে অন্যায় করেছে। 

এদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা জানান,আমি যাবো।  বিষয়টি দেখতেছি।


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।