জানাযার ছালাত আদায়ে ভূলসমূহ: মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ

: ‘জানাযা’-শব্দটির অর্থ হলো একজন মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করার পূর্ব মুহুর্ত১। আর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে ইসলামের একমাত্র আয়োজন হলো জানাযার ছালাত । যা মাইয়েতের জন্য একমাত্র দো‘আর অনুষ্ঠান এবং যা ব্যতীত মুসলমানদের জন্য পৃথক কোন দো‘আর অনুষ্ঠান ইসলামী শরী‘আতে নেই। 

জানাযার ছালাত আদায়ে ভূলসমূহ: মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ



 যা রাসূলুল্লাহ (ছা.) তাঁর মসজিদের বাইরের নিদিষ্ট স্থানে অধিকাংশ সময়ে পড়াতেন (ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/২৮২)। তবে প্রয়োজনে মসজিদেও জানাযা পড়ানো জায়েয আছে। সুহায়েল বিন বায়যা (রা.) ও তার ভাইয়ের জানাযা রাসূল (ছা.) মসজিদের মধ্যে পড়েছেন (মুসলিম, মিশকাত, হাদীস নং.: ১৬৫৬)। হযরত আবুবকর ও ওমর (রা.)-এর জানাযা মসজিদের মধ্যে হয়েছিল (বায়হাক্বী ৪/৫২)২। জানাযার ছালাত আদায়ের ফজিলত অফুরন্ত। রাসূলুল্লাহ (ছা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় কোন জানাযায় শরীক হ‘ল এবং দাফন শেষে ফিরে এলো, সে ব্যক্তি দুই ‘ক্বীরাত’ সমপরিমাণ নেকী পেল। প্রতি ‘ক্বীরাত’ ওহোদ পাহাড়ের সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি কেবলমাত্র জানাযা পড়ে ফিরে এলো, সে এক ‘ক্বীরাত’ পরিমাণ নেকী পেল (বুখারী, হাদীস নং. : ৪৭, মিশকাত, হাদীস নং. : ১৬৫১)৩। সুতরাং পরিচিত অপিরিচিত মৃতের জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অবশ্য পালনীয়। তবে এই জানাযার ছালাত আদায় করতে গিয়ে আমরা এমন কিছু করি যা পবিত্র কুরআন কারীম এবং সহীহ হাদীসে খুঁেজ পাওয়া যায়না। এমন কিছু বিষয় নিয়ে নি¤েœ আলোচনা করা হলো।


১. উপস্থিত মুসল্লিদের নিকট মৃত ব্যক্তি ভালো ছিলেন মর্মে স্বীকারোক্তি নেয়া :

এটা সম্মানিত ইমামগণ করে থাকেন যে, জানাযার ছালাতের পূর্বে মৃত ব্যক্তি কেমন ছিলেন বা ভালো ছিলেন মর্মে স্বীকারোক্তি নেয়া। মূলত লাশকে সামনে রেখে নবী করীম (ছা.) এমনটি করেছেন এমন কোন প্রমান খুঁজে পাওয়া যায় না। ওমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যে কোন মুসলমানের পক্ষে চারজন ভাল বলে সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা বললাম তিন জন সাক্ষ্য দিলে? তখন নবী (ছা.) বললেন, তিন জন সাক্ষ্য দিলেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম দুইজন সাক্ষ্য দিলে? রাসূল (ছা.) বললেন, দুইজন সাক্ষ্য দিলেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ওমর (রা.) বলেন, আমরা একজনের সাক্ষীর কথা বলিনি (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ১৩৬৮,  মিশকাত, হাদীস নং. : ১৬৬৩)।

সুতরাং মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে ভালো বলাটা আমাদের জন্য শ্রেয়। কিন্তু লাশকে সামনে রেখে জনগণের নিকট থেকে স্বীকারোক্তি নিতে হবে উপরি-উক্ত হাদীসুগলো দ্বারা একথা প্রমান করে না বিধায় একাজ থেকে বিরত থাকাই আমাদের জন্য বাঞ্চনীয়৪।


২. লাশকে সামনে রেখে বিশিষ্টজনদের আলোচনা সম্পাদন :

জানাযার ছালাতের সময় লাশকে সামনে রেখে সমাজের বিশিষ্টব্যক্তি অথবা রাজনীতিকগণ বিভিন্ন আলোচনার অবতারণা করে থাকেন। অথচ রাসূল (ছা.) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে এরূপ কোন আমল পাওয়া যায়না। বরং যিনি ইমামতি করবেন, তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে ঈমান বর্ধকমূলক সংক্ষিপ্তভাবে কিছু নছীহত করতে পারেন যাতে উপস্থিত জনসাধারণ নিজেদেরকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করতে পারেন (বুখারী, হাদীস নং. : ৪৯৪৯, আবুদাউদ, হাদীস নং. : ৪৭৫৩, মিশকাত, হাদীস নং. : ১৬৩০)৫। পাশাপাশি মৃতের ঋণ পরিশোধের দ্বায়িত্ব নিয়ে মৃতের উত্তরাধিকারী ব্যক্তি কথা বলবেন মর্মে মাসিক আত-তাহরীক, ১৮তম বর্ষ ফৎওয়া সংকলন এর ৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে ইসলাম বহির্ভূত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদর্শণ :

সমাজে বিশিষ্ট ব্যক্তি বিশেষকরে মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে জানাযার পরে বা দাফনের পূর্বে রাষ্ট্রীয় সম্মাননার নামে করুণ সুরে বিউগল বাজানো হয় এবং পাশাপাশি যা কিছু করা হয় তা সবটাই সুস্পষ্ট বিদ‘আত বলে উল্লেখ করা হয়েছে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত ছালাতুর রাসূল (ছা.) গ্রন্থের ২২৯ পৃষ্ঠায়। এ সম্পর্কে রাসূল (ছা.) বলেন, যে মৃতের উপর বিলাপধ্বনি করা হয়, কবরে ও ক্বিয়ামতের দিন এজন্য তাকে আযাব দেওয়া হবে (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ১২৮৯, ছহীহ মুসলিম, হাদীস নং. : ৯৩২, মিশকাত, হাদীস নং. : ১৭৪১)। আর এটা  নিঃসন্দেহে ঐ মাইয়েতের জন্য যে এসব কাজ সমর্থন করে এবং এসব না করার জন্য মৃত্যুর আগে অছিয়ত না করে যায় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মির‘আত শরহ মিশকাত, হাদীস নং. : ১৭৫৪)। অতএব মুসলিম মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত মৃত্যুর পূর্বে অছিয়ত করে যাওয়া যেন তার মৃত্যুর পরে জানাযা ব্যতীত অন্য কোন আনুষ্ঠানিকতা না করা হয়৬।


৪. জানাযার ছালাতে পায়ে পায় না মিলিয়ে দাঁড়ানো :

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া হলেও জানাযার ছালাতের নামও ছালাত। সুতরাং ছালাত যেভাবে আমরা আদায় করি জানাযার ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও একই বিধি-বিধান প্রযোজ্য। অর্থাৎ ছালাতে যেভাবে সারিবদ্ধ হয়ে ফাঁকা জায়গা পূরণ করে প্রাচীরের ন্যায় সোজাভাবে দাঁড়াতে হয়, জানাযার ছালাতেও সেভাবে দাঁড়াতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছা.) জামা‘আত শুরু করবার পূর্বে কাতার সোজা করে কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে ফাঁক বন্ধ করে দাঁড়াতে বলতেন (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ৭২৩, ছহীহ মুসলিম, হাদীস নং. : ৪৩০, মিশকাত, হাদীস নং. : ১০৯১। সুতরাং জানাযার ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও কাতার সোজা করে কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলিয়ে আদায় করা সুন্নাত৭।


৫. জানাযার ছালাত আদায়ে সন্দেহপূর্বক জুতা খুলে দাঁড়ানো :

জানাযার ছালাত আদায়ে প্রায়শঃই আমরা স্যান্ডেল বা জুতা খুলে তার উপর দাঁড়িয়ে অথবা সামনে রেখে ছালাত আদায় করি। অথচ জানাযা আদায় করার সময় নাপাকি না লেগে থাকা সত্বেও শুধু সন্দেহবশত জুতা খুলে রাখা ঠিক নয়৮। কেননা পরিষ্কার ও পবিত্র জুতা পরে ফরয-নফল যেকোন ছালাত আদায় করা যায় (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ৩৮৬)৯। সুতরাং আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ রচিত রাসূল (ছা.) - এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত  গ্রন্থের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, জুতা দুটি উল্টিয়ে দেখে নেয়া। যদি তাতে নাপাকি দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে তা যমীনে ঘষে নিবে। অতঃপর তাতে ছালাত আদায় করবে (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং. : ১১৮৯৫, ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং. : ১০১৭)।


৬. জানাযার ছালাতে ছানা পড়া :

জানাযার ছালাতে আমরা ছানা পড়ে থাকি। অথচ শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ তার ‘রাসূল (ছা.) - এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ৩০১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, জানাযার ছালাতে রাসূল (ছা.) ছানা পড়েছেন মর্মে কোন প্রমান নেই। এমনকি ছাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈ থেকেও  ছানা পড়ার পক্ষে কোন প্রমান পাওয়া যায় না। অপরদিকে প্রশ্নোত্তর সংকলন ‘আরকানুল ইসলাম’ এর ৪৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হয়েছে, ত্বালহা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আওফ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) এর পিছনে একটি জানাযার ছালাত আদায় করেছি। তিনি তাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করলেন  এবং বললেন, আমি তা এজন্য পাঠ করলাম, যাতে তোমরা জান যে এটা সুন্নাত (ছহীহ বুখারী, হাদীস নং. : ১৩৩৫, মিশকাত, হাদীস নং. : ১৬৫৪)। উক্ত গ্রন্থে আরো উল্লেখিত হয়েছে, জানাযার ছালাতে সুন্নাত হচ্ছে-তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করা ( নাসাঈ, হাদীস নং. : ১৯৮৯)। আর মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল গ্রন্থের ১৯৯ পৃষ্ঠায়  শায়খ ওছায়মীন লিখেছেন, ‘জানাযার ছালাতের ভিত্তি সংক্ষেপ। তাই এতে ছানা পড়া উচিত নয়’।


৭. জানাযার ছালাতে সুরা ফাতিহা পাঠ না করা :

আমরা অধিকাংশই জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করি না। অথচ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত ‘ছালাতুর রাসূল (ছা.)’ গ্রন্থের ৮৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হয়েছে, ইমাম ও মুক্তাদী সকলের জন্য সকল প্রকার ছালাতে প্রতি রাক‘আতে সুরায়ে ফাতিহা পাঠ করা ফরয। এ সম্পর্কে হযরত উবাদাহ বিন ছামিত (রা.) হ‘তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) এরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তির ছালাত সিদ্ধ নয়, যে ব্যক্তি সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হাদীস নং. : ৮২২)। আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ তার ‘রাসূল (ছা.) - এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ৩০১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়েছেন (তিরমিযী, হাদীস নং. : ১০২৬, মিশকাত, হাদীস নং. : ১৬৭৩)। এ সম্পর্কে ত্বালহা ইবনে আব্দুল্লাহ বিন আওফ (রা.) বলেন, আমি একদা ইবনে আব্বাস (রা.) এর পিছনে জানাযার ছালাত আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। তিনি ক্বিরাআত জোরে পড়ে আামাদের শুনালেন। তিনি যখন ছালাত শেষ করলেন, তখন আমি তাকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা সুন্নাত এবং হক্ব (নাসাঈ, হাদীস নং. : ১৯৮৭, আবু দাউদ, হাদীস নং. : ৩১৯৮)। অপরদিকে জাল হাদীসের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছা.) এর ছালাত গ্রন্থের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হয়েছে, যহুরী বলেন, আবু উমাম (রা.)-কে সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব-এর নিকট হাদীছ বর্ণনা করতে শুনেছি যে, জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাত। অতঃপর রাসূল (ছা.)-এর উপর দরূদ পাঠ করবে। তারপর মাইয়েতের জন্য একনিষ্ঠচিত্তে দু‘আ করবে। প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময়ে কিছু পাঠ করবে না। অতপর তুমি ছালাম ফিরাবে (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস নং. ১৪৯৭)।


প্রিয় মানুষটির মৃত্যুতে আমরা তার জন্য দো‘আ স্বরূপ জানাযার ছালাত আদায় করছি। যা রাসূল (ছা.) এর অনুসরণে হওয়া বাঞ্চনীয়। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য এবং সঠিকটি জানার এবং তা আমল করার  তৌফিক দান করুন। আমীন। 


সহায়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ : 

১. জানাজা শব্দের অর্থ কি -  শায়খ মতিউর রহমান মাদানী, 

২. ছালাতুর রাসূল (ছা.) - মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, পৃষ্ঠা নং. : ২২৮-২২৯।

৩. ফৎওয়া সংকলন-মাসিক আত-তাহরীক, ১৯তম বর্ষ, পৃষ্ঠা নং. : ১০০।   

৪. রাসূল (ছা.) - এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত - আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ পৃষ্ঠা নং. : ২৯৯-৩০০।

৫. ফৎওয়া সংকলন-মাসিক আত-তাহরীক, ১৮তম বর্ষ, পৃষ্ঠা নং. : ৬৮।  

৬. প্রশ্নোত্তরে ‘আরকানুল ইসলাম’-ইসলামিক রিসার্চ  এন্ড রিফরমেশন সেন্টার, পৃষ্ঠা নং. : ৪৭৩।

৭. প্রশ্নোত্তরে ‘আরকানুল ইসলাম’-ইসলামিক রিসার্চ  এন্ড রিফরমেশন সেন্টার, পৃষ্ঠা নং. : ৪৫৭-৪৫৮।

৮. রাসূল (ছা.) - এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত - আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ পৃষ্ঠা নং. : ২৯৯।

৯. প্রশ্নোত্তরে ‘আরকানুল ইসলাম’-ইসলামিক রিসার্চ  এন্ড রিফরমেশন সেন্টার, পৃষ্ঠা নং. : ৪৫৮।



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।