নির্যাতিত নেতা রাখালকেই দেওয়ানগঞ্জ আ’লীগের সা. সম্পাদক দেখতে চায়

 : মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করেই যার রাজনৈতিক জীবন শুরু শাকিরুজ্জামান রাখাল। মামলা-হামলা-নির্যাতনের শিকার এবং মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা, রাজপথে বিএনপি-জামাতের হাতে নির্যাতনের ও যৌথবাহিনীর হাতেও একাধিকবার আটক নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা শাকিরুজ্জামান রাখালকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চান নেতা ও সমর্থকরা।

নির্যাতিত নেতা রাখালকেই দেওয়ানগঞ্জ আ’লীগের সা. সম্পাদক দেখতে চায়



 জানা গেছে,আওয়ামী লীগ নেতা শাকিরুজ্জামান রাখাল দেওয়ানগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালের ১ অক্টোবর বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের পোল্যাকান্দি গ্রামে জন্ম নেওয়া রাখালের পিতা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম সুরুজ্জামান দুদু বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। মাতা সজিরন নেছা। মরহুম সুরুজ্জামান দুদু আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতা ছিলেন। রাখালের বড় ভাই সোলায়মান হোসেন বর্তমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সোলায়মান হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বড় মামা মরহুম আবু ছাইদ বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। 


সমর্থকরা জানান, রাজনৈতিকভাবেই তাঁর শৈশব কৈশর শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। তাঁর প্রাণের দল আওয়ামী লীগের জন্য বহুবার রাজপথে বিএনপি-জামাতের হাতে নির্যাতনে শিকার হন। 


তিনি বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় মেয়াদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৫ সালে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ লাভ করেন। ২০১৪ সালের কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে জয়লাভ করেন। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। চলতি বছর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।


দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় ১৯৯০ সাল থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন রাখাল। পরবর্তীতে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের (পোল্যাকান্দি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদ লাভ করেন। পরবর্তীতে আহসান হাবীব টিটু মুক্তাদির বিল্লাহ সিপনের প্রস্তাবিত প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে দলের স্বার্থে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন। 


২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। সে সময় যৌথ বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন এবং জামালপুর জেলা কারাগারে ৭২ দিন কারাভোগ করেন। শুধু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অপরাধে তাকে বহুবার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৯৯ সালে রাজ্জাক হত্যা মামলায় রাখালকে ২নং আসামী, তার সহোদর ছোট ভাই নাজমুল হোসেনকে ৪নং আসামী এবং বড় ভাই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেনকে ১৪ নং আসামী করা হয়েছিল। 


পরিবারের ৩ ছেলে মামলার আসামী হওয়ায় সবাই ঘর বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পলায়ন করেন এবং ওই সময় তাদের পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। তখন বৃদ্ধ বাবা-মা’কে দেখার কেউ ছিল না। বহু কষ্টে তাদের সংসার চলতো। তাদের বাবার পৈত্রিক জমিজমা বিক্রি করে এসব মামলা চালাতে গিয়ে নি:স্ব হয়েছিল পরিবারটি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রাখালের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ১০ মাস ১০ দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা বরণ করেন।


 ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমানিত হলে বেকসুর খালাস পান রাখাল। তারপর থেকেই রাজনৈতিক কারণে অনেকবার কারাবরণ করেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে তাকে বহুবার হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বহুবার। 


রাখালের রাজনৈতিক জীবনের বহু বছর জেল খেটেছেন, নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত দু:দিনের একনিষ্ঠ কর্মী। যা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা তথা জামালপুর জেলার সকল নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ সবাই অবগত রয়েছেন।


সমাজ সেবায়ও তাঁর অবদান কম নয়। রাজনীতিবীদ এবং জনপ্রতিনিধি হবার সুবাদে সমাজসেবক হিসাবে সমাজের বহু কল্যাণজনক কাজ করার সৌভাগ্য লাভ করেন ত্যাগী এই নেতা। 


তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে পোল্যাকান্দি জামে মসজিদ, পোল্যাকান্দি ঈদ-গাঁ মাঠ, হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্ম সভায় ব্যক্তিগত অনুদান দিয়ে ধর্মীয় জলসার আয়োজন করেন ।

প্রতি বছর দূর্গা পুজায় উপজেলার ২৫টি পুজা মন্ডপে লাখ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। 


এছাড়াও অসহায় দুঃস্থ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সামাজিকভাবে যে কোনো সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে তিনি সবার আগে দাঁড়ান। চেষ্টা করেন তাঁর সাধ্যমত সার্বিক সহযোগিতা করার।


সংগঠন সু সংগঠিত করতে আসন্ন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা শাকিরুজ্জামান রাখালই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন বলে মনে করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।