কুড়িগ্রামে পাল্টে যাচ্ছে নদনদীর চরের মানুষের জীবন

 : কুড়িগ্রামে বন্যা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর গৃহহীন হয় শত সহ¯্র্র পরিবার। আর এতে বিনষ্ট হচ্ছে চরের মানুষের বিভিন্ন কৃষি ফসল। ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো পড়ে যায় চরম সংকটে।

কুড়িগ্রামে পাল্টে যাচ্ছে নদনদীর চরের মানুষের জীবন



 এমন পরিস্থিতিতে বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার সাড়ে ৭শতাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। তারা দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি পারিবারিকভাবে আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে এগিয়ে এসেছে। আর তাদের সহযোগিতায় এসব পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবনমান।ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রাম। আর এসব নদীর বুকে জুড়ে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক চর। প্রতি বছর বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ফলে নিঃস্ব হয় এসব চরের অনেক পরিবার। এই পরিবারগুলোর মধ্য থেকে জেলার চিলমারী, রৌমারী ও সদর উপজেলায় ২৫টি চরের ৭৫০টি দরিদ্র পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে উন্নয়নমুখী হতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশীপ এসব পরিবারকে বিভিন্ন বিষয়ে আতœনির্ভরশীল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। পরিবারগুলোকে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে শাকসব্জির বীজ দেয়া হয় এবং স্বাবলম্বী করতে চরে উপযোগী ভেড়া বিতরন করা হয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি।পরিবারগুলোর বন্ধন অটুট রাখার জন্য পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ ও আইনগত বিষয় নিয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়। গতকাল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলা নদীর অববাহিকায় পাঙ্গারচর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,এই গ্রামের ৩০টি বন্যা কবলিত পরিবার পারিবারিক আয়বৃদ্ধিমুলক কর্মকান্ড ছাড়াও সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজে যুক্ত হয়েছেন।এ এলাকার বাসিন্দা সাহাদ আলী ও মফিজুল ইসলাম জানান,আমাদের গ্রামে প্রবেশ করার রাস্তাটি বন্যায় ভেঙে চুরমার হয়।চলাচলে অনুপযুক্ত রাস্তাটি আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যোগাযোগ করে উন্নয়ন সংস্থাটির সহায়তায় মেরামত করি। এখন এ রাস্তা দিয়ে রিক্সা ও অটোরিক্সা খুব সহজেই চলে যেতে পারে। ফলে আমরা আমাদের উৎপাদিত শাক-সবজি সহজেই হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারি। আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারে।হাসিনা বেগম নামে এক নারী জানান, আমাদেরকে সুশাসন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর আমরা এখন সচেতন হয়েছি।আমরা পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, তালাকপ্রাপ্ত, বহুবিবাহ, পারিবারিক দ্ব›দ্ব, সংবিধান, সংসদ সম্পর্কে জানতে পেয়েছি। এখন কোনো আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হলে আমরা ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে তা করি এবং তারা আমাদেরকে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ  প্রদান করেন। একই গ্রামের আঞ্জুমান আরা, খোদেজা ও আহাদ আলী জানান,আগে হাট থেকে রাসায়নিক সার কিনে আনতাম, এখন আমরা জৈব সার তৈরি করে ব্যবহার করি, ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা মারছি, সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করছি।একই গ্রামের আঞ্জুমান আরা বেগম জানান,প্রকল্প থেকে আমাকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে একটি ভেড়া দিলে সেটি থেকে ৩টি বাচ্চা হয়। এখন আমার ঘরে চারটি ভেড়া; যার বাজারমূল্য ২৮হাজার টাকা। আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন,আধুনিক পদ্ধতিতে শাক-সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর আমার বসতবাড়ীতে সবজি উৎপাদন করে এবছর প্রায় ২৪হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি; যা আমার সাংসারিক ব্যয়ভার বহন করে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারছি।এছাড়াও ৫হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনে উন্নতি লাভ করি।আমার স্ব^ামীর একার আয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।ফ্রেন্ডশিপ এর ট্রান্সজিশন ফান্ড (এএসডি)প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল ইসলাম মল্লিক জানান, আমরা ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গ এর সহায়তায় সদস্যদের আয় রোজগার নিয়মিতকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্ন্য়ন, সুশাসন এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে জেলার কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রৌমারী এ ৩ উপজেলার মোট ২৫টি চরে ৭৫০ জন সদস্যকে প্রকল্প সহায়তা প্রদান করে আসছি।কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, কুড়িগ্রামের ৩ উপজেলায় ফ্রেন্ডশীপ ৭৫০টি পরিবারকে ভেড়া প্রদান করে এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।একারনে পরিবারগুলোর ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:রাসেদুল হাসান জানান,কুড়িগ্রামে নদনদীর চরে বসবাসরত এসব পরিবারকে ফ্রেন্ডশীপ ভেড়াসহ নানা সহায়তা করছে যা তাদের ভাগ্যোন্নয়ণে ভূমিকা রাখছে। 



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।