জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপর ঝাল ঝাড়লেন গয়েশ্বর চন্দ্র

জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপর ঝাল ঝাড়লেন গয়েশ্বর চন্দ্র

সেবা ডেস্ক: বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিলাসী জীবনযাপন করা, রমজান মাসে পাঁচ তারকা হোটেলে আয়েশি ইফতার করা এবং খালেদা জিয়াকে রেখে নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে দলের জ্যেষ্ঠ সব নেতা-কর্মীদের উপর ঝাড়লেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গয়েশ্বর চন্দ্র’র এমন কড়া সমালোচনায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মাঝে অদৃশ্য কোন্দল শুরু হয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র মূলত মির্জা ফখরুল, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মোসাদ্দেক আলী ফালু, বিএনপির ব্যাংকখ্যাত আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করেছেন। এসব নেতারা নাকি সরকারের সাথে আতাত করে সেফ জোনে অবস্থান নিয়েছেন। দলীয় নেত্রীর কারাবাস নিয়ে তাদের এতটা মাথা ব্যাথা নেই। এদিকে গয়েশ্বর চন্দ্রের এমন মন্তব্য নিয়ে অনেক সিনিয়র নেতারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। দলের প্রয়োজনে গা ঢাকা দেওয়া গয়েশ্বরকে আবার বসন্তের কোকিল বলে আখ্যায়িত করছেন।

এর আগে ২২ মে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া ও ইফতারে তিনি একথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আমাদের অনেকের রিকশায় চড়ার পয়সা থাকতো না, খালেদা জিয়ার কল্যাণে মন্ত্রী হইছি, বাড়ি হইছে, গাড়ি হইছে, দেশে হয়েছে-বিদেশে হয়েছে। আপনাদের নিজের বিবেকের কাছে একটু লাগে না যে ওনারে জেলে রেখে আমরা আরাম-আয়েশ করি। যার কারণে গণতন্ত্র পেয়েছেন তাকে কারাগারে রেখে আয়েশি জীবন যাপন করতে আপনাদের লজ্জা লাগে না!

গয়েশ্বর চন্দ্রের এমন বক্তব্যকে শুধুমাত্র আস্ফালন দাবি করে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্র হলেন সুযোগ সন্ধানী। আন্দোলন-সংগ্রামে তার টিকির দেখা মিলে না। ২০০৮ সালের পর থেকেই সরকারের সাথে সমঝোতা করেই এতদিন চলাফেরা করেছেন, আয়-ইনকাম করেছেন। আন্দোলনের ডাক দিলেই গয়েশ্বর চন্দ্রের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে শরীর খারাপের ছুঁতোয় মিছিল-মিটিং এড়িয়ে চলেন। তার মত ফাঁকিবাজ, ধান্দাবাজ নেতার মুখে এমন নীতিবাক্য মানায় না। মির্জা ফখরুল যতবার জেলে গেছেন, গয়েশ্বর ততবার জেল গেটেও যাননি। চাপাবাজি করলেই বড় নেতা হওয়া যায় না। নেতা হতে সাহস লাগে।

বিএনপি নেতাদের এমন কাদা ছোড়াছুড়িকে মূর্খতা দাবি করে আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি যে সুবিধাভোগী এবং প্রতারকদের দল সেটি নেতাদের মন্তব্য এবং দোষারোপ খেলায় বোঝা যায়। দলটির অবস্থা ভঙ্গুর। এর মধ্যে আবার নেতাদের দ্বন্দ্ব, আন্দোলন বিমুখতা, নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন নিয়ে মশকরা করার মত হাস্যকর কাজকর্মের জন্য দলটির জনপ্রিয়তা আজ শুন্যের কোটায়। বিএনপির অবস্থা ময়লার ভাগাড়ের মতো। আবর্জনাভরা মস্তিস্ক সম্পন্ন লোকজন বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেজন্যই বিএনপি মৃতপ্রায় হাঁপানি রোগীর মত হাঁপাচ্ছে।



,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে