কোথায় বিএনপির থিঙ্ক ট্যাংকরা? তারা কি আত্নগোপনে!
কোথায় বিএনপির থিঙ্ক ট্যাংকরা? তারা কি আত্নগোপনে!

কোথায় বিএনপির থিঙ্ক ট্যাংকরা? তারা কি আত্নগোপনে!

সেবা ডেস্ক: সারা বিশ্বের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেরই একটি করে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থাকে। রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন, সেই নীতি বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ, দল পরিচালনা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় কর্মসূচি নির্ধারণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।

২০১৫ সালে বিএনপি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বিএনপির সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ গঠন করেছিল। সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতি এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিশ্লেষণ, পাশাপাশি দল সম্ভাব্য করণীয় ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই ছিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কাজ। এছাড়া জাতীয় রাজনীতির বাইরে উপমহাদেশ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ, বিএনপির অবস্থান ও বক্তৃতা ঠিক করার কাজটিও করত থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্যরা।

বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শফিক রেহমান, মাহামুদুর রহমান এবং ফরহাদ মাজহার। এই তিন জন বেগম জিয়ার পরামর্শক এবং বিশ্বস্ত ছিলেন। বিএনপির অনেক নেতারাও এদের ভয় পেতেন। কিন্তু দলীয় বিভিন্ন ইস্যুর জের ধরে এবং দলের জনপ্রিয়তা দিন দিন হ্রাস পাওয়াতে নিজেদের সম্মান বাচাতে এক প্রকার আত্নগোপনে আছেন অনেকদিন ধরে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী দল পরিবর্তনের চিন্তাও করছেন এদের মধ্যে কেউ কেউ। বিএনপির বিভিন্ন সভা সেমিনারে তাদের দেখা যায় না অনেকদিন ধরে। একসময় সরকারের কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন টক শোতে কঠোর সমালোচনা করা কণ্ঠগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নীরব হয়ে আছে। আগের মতো নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের টক শো গুলোতে তাদের দেখা যায় না অনেকদিন ধরে।

এই তিনজনের মধ্যে অন্যতম আলোচিত শফিক রেহমান। শফিক রেহমান পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ড হলেও সাপ্তাহিক যায়যায় দিন পত্রিকার মাধ্যমে আলোচিত হন। ২০০০ সাল থেকে তিনি খালেদা জিয়ার বক্তৃতা লেখক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া নয়া দিগন্তে নিয়মিত কলাম লিখতেন তিনি। ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ের পর থেকেই মূলত বিএনপির সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টির সূচনা হয়। ২০১৬ সালের এপ্রিলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে শফিক রেহমান গ্রেপ্তার হন। সেপ্টেম্বরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একপ্রকার আত্নগোপনে চলে যান এই বুদ্ধিজীবী। সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে আত্নগোপনে যাওয়ার অভিযোগ তোলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও তাঁর কোনো খোঁজখবর নেয় না।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা লক্ষণীয় হয় মূলত ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মাহামুদুর রহমান ছিলেন বিএনপির পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে শাহবাগে শুরু হওয়া আন্দোলন নিয়ে আমার দেশ পত্রিকায় নানা ধরনের উস্কানিমূলক সংবাদ এবং ব্লগারদের নিয়ে বিতর্কিত খবর প্রকাশ করে দেশে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, হেফাজতে ইসলামের উত্থানের পেছনে আমার দেশ পত্রিকাটির ইন্ধন ছিল। এরপর ২০১৩ সালেই এসব অভিযোগে মাহামুদুর রহমান সাইবার ক্রাইম,আদালত অবমাননা ইত্যাদি মামলায় গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকেই একপ্রকার গা ঢাকা দিয়ে আছেন এক সময়ের বিএনপির সরব বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমান। তার বিরুদ্ধেও জেলে থাকা অবস্থায় সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে স্বেচ্ছায় আত্নগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিএনপির।

এক সময়ের কট্টর বামপন্থী নেতা ফরহাদ মাজহার খোলস পাল্টিয়ে বিএনপির বুদ্ধিজীবী হিসেবে নাম লিখান ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে। বিনপির পক্ষে অনেকদিন তার কলম সরব ছিল। কিন্তু গত বছরের জুলাই মাসে বিএনপির গুমের নাটকের ‘কেন্দ্রীয় চরিত্র’ হিসেবে অভিনয় করতে গিয়ে খুলনায় ধরা পড়েন ফরহাদ মাজহার। এর পর থেকেই নীরব ভূমিকায় চলে যান এই বুদ্ধিজীবী। উগ্র নারী প্রেম নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্পও শোনা যায় তথাকথিত ‘কবি’ ফরহাদ মাজহারের বিরুদ্ধে।

এদিকে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অচল হয়ে যাওয়াতে অনেকদিন ধরেই বিপাকে আছে বিএনপি। সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণের অভাবে বিএনপির দলীয় কার্যক্রমও অচল হয়ে পড়েছে।