ইসলামপুরে দুই সেতুই বদলে দিল চরাঞ্চল মানুষের জীবন যাত্রার মান

ইসলামপুরে দুই সেতুই বদলে দিল চরাঞ্চল মানুষের জীবন যাত্রার মান

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, ইসলামপুর:  জামালপুরের ইসলামপুরে দুই সেতুই পাল্টে দিল চরাঞ্চলবাসীর জীবন যাত্রার মান। চরাঞ্চল এখন আর চরাঞ্চল নয় পূর্বাঞ্চলে পরিনত হয়েছে। এ উপজেলাটি ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনানদী দ্বারা বেস্টিত। যমুনার নদীর ওপারে কুলকান্দি,সাপধরী,বেলগাছা,চিনাডুলী চারটি ইউনিয়নের জনসাধারনের বসবাস। সারা বছর এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা নৌকা।

যাতায়ার ব্যবস্থা ভাল না থাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি বললে ভুল হবেনা। উপজেলাটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি যমুনার পশ্চিমাঞ্চল,ইসলামপুর সদর এবং পূর্বাঞ্চলের গাইবান্ধা,গোয়ালেরচর,চর গোয়ালীনি ও চর পুটিমারী।পূর্বাঞ্চলের মানুষগুলো  খানাখন্দ রাস্তায় যাতায়াত ও নদীপথ পারি দিয়ে শহরে আসতে দিনের অর্ধেক সময় লেগে যেত। সেতুটি দুইপাড়ের মানুষের স্বপ্নের সেতু।

ফকিরপাড়া পাইলিং ঘাট নব নির্মিত সেতু যাহার দৈর্ঘ্য ৫৬০ মিটার। একই প্রকল্পভুক্ত ইসলামপুরের ব্রহ্মপুত্র নদের ডেফলা ঘাটে ৫৬০ মিটার দীর্ঘ আরেকটি স্বপ্নের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দুটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। দুটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২০৪ কোটি টাকা।

সেতুর সাথে যুক্ত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাকা সড়কও হচ্ছে। সেতু দুটির কারনে তৃখন্ড উপজেলা দ্বিখন্ডে পরিনত হয়েছে। ইতিমধ্যে পূর্বাঞ্চল বাসির প্রাণের দাবী দুটি সেতুর মাধ্যমে শহর এবং পূর্বাঞ্চল বাসীর মাঝে মিলন মেলা সৃষ্টি হয়েছে।

শিগগির সেতু দুটি উদ্বোধন করে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সেতু ও দুই পাড়ের সড়ক যোগাযাগ স্থাপিত হওয়ায় ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, শেরপুর, শ্রীবরদী ও মেলান্দহ উপজেলার দশ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হতে যাচ্ছে।

সেতুতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই স্মরণ করলেন ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের  দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলালের অবদানের কথা।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল এর উদ্যোগের কারণে উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা গাইবান্ধা, গোয়ালেরচর, চরগোয়ালিনী ও চরপুটিমারী ইউনিয়নের মানুষদের স্বপ্নপূরণ দুপারের সেতুবন্ধন হয়েছে।

অন্যদিকে এই সেতুর কারণেই ইসলামপুর উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলো পাশের বকশীগঞ্জ, শেরপুর, শ্রীবরদী ও শ্যামপুর ইউনিয়ন মেলান্দহ উপজেলাও । বিগতদিনে যেমন চরাঞ্চলবাসী বিভিন্ন ফসল আবাদ করে যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকায়  বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হতো।

কিন্তু এখন আর সেই যন্ত্রনা পোহাতে হয়না ট্রাক,পিকাপ,সিএনজি সহ যান্ত্রিক চালিত গাড়ী ফসলের মাঠে পৌছতে কোন সমস্য না থাকায় কৃষককুল আবাদী ফসল আরামনে শহরে নিয়ে উচ্চ দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে পাচ্ছে।

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ডেফলা ঘাট ও ফকিরপাড়া পাইলিং ঘাট সেতুতে বিকেল গড়ালেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়। এখানে অনেক মানুষ আসে,নদী আছে,সুন্দর পরিবেশ সুন্দর লাগে। সেতুটি যেন বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।

বিকাল হলেই হাজার জনতা ভীড় জমায় একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য। বিকালের বাতাসে  উন্মাদ হযে যায় এখানে আসা মানুষগুলো। দুরদুরান্ত থেকে হাজারো জনতার কথা শুনলে মনে হয় এমন মনোরম পরিবেশ আর কোথাও নেই।


শত শত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ শিশু এমনকি বয়স্ক নারী-পুরুষও দেখা গেল সেতুতে বেড়াতে এসেছেন। একদিকে যেমন মনোরম পরিবেশ অন্যদিকে এই সেতু থেকে নদী, নৌকা, দূরের সবুজ গাছগাছালি দেখা, হিমেল বাতাস এমনকি সন্ধ্যায় সূর্যডোবা আকৃষ্ট করে যে কাউকেই।

সন্ধ্যায় সূর্য যখন লাল রক্তিম থালার মতো আস্তে আস্তে দূরের গ্রামের গাছাপালায় তলিয়ে যায় মুগ্ধ হওয়ার মতই দৃশ্য। জানাযায়, সেতুতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের আনাগোনা আরও বেড়েছে। শুধু ইসলামপুর নয় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই সেতুতে বেড়াতে আসেন অনেকেই।

শুধু মানুষের মিলনমেলাই নয়। এই সুযোগে সেতু দুটিতে গড়ে উঠেছে ভাসমান বিভিন্ন খাবারের দোকান। আইসক্রিম, বাদাম, চানাচুর, চটপটিওয়ালা, মাটির তৈরি খেলনা থেকে শুরু করে নানা রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষেরা।

উপজেলার সিরাজাবাদ গ্রামের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী তানিয়া আক্তার অজান্তা। বান্ধবীদের সাথে নিয়ে দলবেধে এসেছে সেতুতে বেড়াতে। অজন্তা জানায়, আমাদের এদিকে কোনো বেড়ানোর জায়গা নেই। প্রাায় প্রতিদিনই আসি। খুব ভালো লাগে। পরিবেশটা খুবই ভালো। বিকেলের সময়টাও কাটলো। বেড়ানোও হলো। ছেলেরা এখানে কিছু সমস্যা করে। তাই আমরাও দলবেধে আসি। এছাড়া এখানে কোনো সমস্যা হয় না।


দর্শনার্থীরা জানান, খুব ভালো লাগে বিশেষ করে বিকেলবেলা। অনেকের সাথে দেখা হয়। এখানকার নদী, নৌকা দূরের ছবি সবাই ভালো লাগে। শারমিন আক্তার বললেন, আমাদের তো বেড়ানো তেমন জায়গা নেই। এই সেতু হয়ে ভালোই হয়েছে। আমরা এখন মাঝেমধ্যেই এখানে আসি। বিকেলবেলা খুব মজা হয়।

ভাম্যমান আইসক্রিম,ফুটকা ব্যবসায়ীরা জানান, বিরিজ অয়নের পর থেইকা এইহানে বেচতাছি। ভালোই বেচা অয়। প্রতিদিন এখানে এক হাজার টাকা থেইকা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেচতাছি। ঘুরন লাগে না। দুপুরের পর আসি। সন্ধ্যার মধ্যেই ব্যবসা হয়া যায়। এমন অনেক বিক্রেতার কাছে অনেক লাভজনক কথা শুনা যায়।

অন্যদিকে,সেতুটি চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রার মান ও দুইপারের মিলন মেলায় পরিনত হওয়ায় চরাঞ্চলবাসীর প্রিয় নেতা গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার মাকছুদুর রহমান আনসারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের দিনবদলের পালায় সবকিছুই আজ পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর আগের মত চরাঞ্চল বাসীকে পায়ে হাটতে হয়না,নৌকায় আর পার হতে হয়না। রাস্তাঘাট গুলো সয়ংসম্পূূর্ন হয়ে চলাচলের মধ্যে দিয়ে চরাঞ্চলবাসীর উন্নত জীবনে পরিনত হচ্ছে।

উপজেলা শহরে আসতে এখন আর ধর্ণা ধরে বসে থাকতে হয়না নদীর পাড়ে। উপজেলা শহর হতে বিভিন্ন যানবাহনে হরহামেশাই চরাঞ্চলে যেতে বিন্দুমাত্রও বিলম্ব হয়না। রাস্তাগুলো নির্মান সম্পূর্ন হলে পূর্বাঞ্চল মানুষের জীবন উন্নত জীবনে  পরিনত হবে বলে আমি আশারাখি।

 এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামপুরবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সাড়া দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দুটি সেতু নির্মাণের জন্য তিনি ইসলামপুরবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।

ইতিমধ্যে  সেতু দুটির নির্মান কাজ শেষের পথে আমরা আশা করছি খুব শীগ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েই সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন এবং তাকে এখানে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ইসলামপুরের জনসাধারণের জন্য এ মাসেই ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন ।

তিনি আরো বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা শতভাগ বাস্তবায়ন করেন। তারি অংশ হিসাবে আজ ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু এবং ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। আগামীদিনে এই উপজেলার অসম্পূর্ন কাজকে সমাপ্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 তিনি আরো বলেন সরকারের সাফল্য কামনায় জঙ্গীবাদ,সন্ত্রাস,বাল্যবিয়ে মাদক মুক্ত সকল উন্নয়ন মুলক কাজের মধ্যে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকলের সহযোগীতায় কামনা করছি।


⇘সংবাদদাতা: লিয়াকত হোসাইন লায়ন

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে