প্রান্তিক জনপদের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেন মফস্বল সাংবাদিকরা

প্রান্তিক জনপদের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেন মফস্বল সাংবাদিকরা

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, প্রতিনিধি,ইসলামপুর : রক্তে রঞ্জিত লাল সবুজের দেশ আমাদের বাংলাদেশ । সুজলা শ্যামলা শষ্য সুফলা নদী মাতৃক যে দেশ আমাদের বাংলাদেশ । বাংলাদেশকে ডিজিটাল এবং মধ্যম-আয়ের দেশে রুপান্তরের যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে তাতে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনগণের পাশাপাশি মফস্বল সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীদের অবদান কম নয়।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বিষয়টি প্রচার না করায় ব্যাপারটি হয়তো অনেকের অগোচরে রয়ে গেছে। একটু মনোযোগ দিলে সবাই বুঝতে পারবে মফস্বল সাংবাদিকরা নিজ নিজ এলাকার অবহেলিত, অনুন্নত, উন্নয়ন-বঞ্চিত জনপদের মুখপাত্রের ভূমিকায় কাজ করছেন। 

প্রান্তিক জনপদের খবর লিখতে গিয়ে অনেক সময় সুবিধাবাদী-স্বার্থান্ধ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমলার মিথ্যে মামলা আর নির্বিচার হামলার শিকার হন মফস্বল সাংবাদিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা পথ চলেন এবং অবহেলিত প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের জন্য কাজ করেন। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বললেই কারও না কারও বিপক্ষে যায় সংবাদ, কারও স্বার্থে লাগে আঘাত। তখন জানে মেরে ফেলার কথাও ভাবেন ওইসব ভদ্রবেশী শয়তানের অনুচরেরা। এ রকম হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলা, বিদ্বেষ-রোষানল, ঝড়-তুফান মাথায় নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন নির্যাতিত নিপিরিত মফস্বল সাংবাদিকরা। 
সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, এই কথা শহুরে সাংবাদিকেরা হয়তো উপলব্ধি করেন কিন্তু মফস্বলে ছুটে বেড়ানো সাংবাদিকেরা তা হাড়ে হাড়ে অনুভব করেন। যেমন পুলিশের ভয়ে চোর-মাস্তান, ডাকাত পালিয়ে বেড়ায়। আর অনেক সময় এসব চোর, মাস্তান এবং ডাকাতদের ভয়ে নিজেকে আড়ালে রাখতে হয় মফস্বলের সাংবাদিককে। এছাড়া বড় কর্তারা বিগড়ে গেলে এসব সাংবাদিকের এলাকায় টিকে থাকাও অনেক সময় দায় হয়ে পড়ে।

তবে একথাও ঠিক যে, বহু ধরনের টাউট এবং অনেক বখাটে যুবক তথাকথিত সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নানা ভাবে চাঁদাবাজী ধান্ধাবাজী করে যাচ্ছে। এসব টাউটদের দৌরাত্ম্যে মফস্বলের অনেক নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকও যথাযথ মূল্যায়ন পান না। এক গাইরার দোষে সাত জনকে পরতে হচ্ছে। সমালোচনার থাবা থেকে প্রকৃত সাংবাদিকরাও নিস্তার পান না। আসলে কি তা ঠিক সবকিছুর বিচার বিশ্লেষন আছে। চাঁদাবাজদের জন্য ভাল লেখকের সুনাম খুন্ন হবে এটা তো হতে পারেনা । নিজের বিবেক দিয়ে প্রশ্ন করলেই সকল উত্তর হাতের মুঠোয় চলে আসে। প্রতিটি উপজেলায় ভাল সাংবাদিক আছে বলেই প্রতিনিয়ত জাতি আজ কল্যানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে ধান্ধাবাজ সব জায়গায় আছে। মফস্বল এবং শহরে ধান্ধাবাজীর ধরন পাল্টালেও চরিত্র পাল্টায় না। আর ধান্ধাবাজ ধান্ধাবাজই। সে কখনো সাংবাদিক হয় না। মফস্বলে কর্মরত একজন সাংবাদিক ক্রাইম রিপোর্ট থেকে শুরু করে একই সাথে স্পোর্টস রিপোর্ট পর্যন্ত করেন। রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাদা মাড়িয়ে সংগ্রহ করতে হয় গ্রাম-গ্রামাঞ্চলের প্রতিদিনকার সব খবর। অনেক কষ্ট করে পাঠাতে হয় পত্রিকা অফিসে। পরদিন তার লেখা রিপোর্টটি যদি সংবাদপত্রের পাতায় ছাপার হরফে দেখামেলে ঠিক তখনি এক ‘আহামরি’ সন্তুষ্টি পান মফস্বল সাংবাদিক। অথচ দেশের অধিকাংশ পত্রিকা বেতন-ভাতা তো দূরের কথা এসব সাংবাদিকের টেলিফোন বিলও দেননা। তবুও নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতোই ছুটেন তারা, কেবলই ছুটে যান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে,শখের বশে,মানব প্রেমে। অথবা কোন এক সোনার হরিণের আশায় চলে তাদের পথচলা। অবশ্য আশার কথা হচ্ছে দিনকাল পাল্টাতে শুরু করেছে। কোন কোন সংবাদপত্র মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। মফস্বলের অনেক সাংবাদিককে স্টাফ রিপোর্টার পদ মর্যাদাও দেয়া হয়েছে। সম্মানী দিচ্ছে অনেক পত্রিকা। তবে সত্য কথা হচ্ছে তা অতি নগণ্য।’ দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের অবহেলিত মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত মান-উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আর সরকারের সঠিক নীতিমালার বাস্তবায়ন হওয়ায় অতিব জরুরী বলে মনে করেন সুধী সমাজ গুনিজনরা। তবে বিগত দিনের তুলনায় এখন মফস্বল সাংবাদিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। বিগতদিনের তুলনায় ডিজিটালাইজ অনেক প্রযুক্তি রের হয়েছে। 

সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সাংবাদিকতা হচ্ছে পৃথিবীর সেরা পেশা। তাই পেশার প্রতি সৎ, সচেতন, দায়িত্ববান, নির্মোহ, নিলোর্ভী হতে হবে। আমি ছোট একজন সংবাদকর্মী মাত্র। ছোট মুখে বড় কথা বলতে নেই। তার পরও একটু বলি, প্রান্তিক পর্যায়ের মফস্বল সাংবাদিকরা তাদের নায্য অধিকার আদৌ পাবেন কি না তা আমার জানা নাই। তবে বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি ইত্যাদি বিবেচনা করে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মানবিক দিক বিবেচনা করলে হয়ত সরকারের ভাবমূর্তী আরো উজ্জ্বল হবে।
⇘সংবাদদাতা: লিয়াকত হোসাইন লায়ন

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে