সরকারের 'ড্রীম স্কুল' ধারনা বাস্তবায়নের মডেল প্রতিষ্ঠান- শাহরাস্তি ল্যাবরেটরী স্কুল


সরকারের 'ড্রীম স্কুল' ধারনা বাস্তবায়নের মডেল প্রতিষ্ঠান- শাহরাস্তি ল্যাবরেটরী স্কুল
 শাহরাস্তি ইউএনও মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ

রকি চন্দ্র সাহা : শাহরাস্তি উপজেলা নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শিক্ষা বিস্তার ও নারীশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা আসলেই প্রয়াত ড. আব্দুস সাত্তারের কথা উপজেলাবাসী এক কথায় উচ্চারণ করবে। তাঁর দেখানো পথ ধরে শাহরাস্তি উপজেলায় নারীশিক্ষার যে অগ্রগতি হয়েছে তা কয়েক যুগ পার হলেও আর সম্ভব হয়নি। 

শাহরাস্তি উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও গুণগত শিক্ষার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় উপজেলাবাসী এ নিয়ে ছিলো বিপাকে। শুধুমাত্র সন্তানদের লেখাপড়ার কারণে উপজেলার অনেকেই বাসা ভাড়া নিয়ে হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা এমনকি ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করে। 

এছাড়াও এ উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কুমিল্লা, চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে আসছেন। এর ফলে সরকারি বাসভবনগুলো ছিলো ফাঁকা। অনেক দূর জেলা থেকে এসে অফিস করার কারণে তাঁদের অফিসে আসতে অনেক দেরি হতো। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জনসাধারণ কর্মকর্তাদের জন্যে থাকতেন অপেক্ষায়।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ। তিনি যোগদানের পর এ বিষয়টি অনুধাবন করেন। এরপর তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে উপজেলায় আধুনিক মানসম্মত একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্কুলটির জন্যে স্থায়ী জায়গা নির্ধারণের পূর্বেই তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেন। সে সময়ও জনমনে ছিলো সংশয়, নানা প্রশ্ন। বিদ্যালয়টি কি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? স্থায়ী কোনো ভবন না থাকার কারণে অন্য কোনো নির্বাহী কর্মকর্তা এসে কি বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেবে? আবাসিক ভবনে কি বিদ্যালয়ে মানায়? দুদিন পরে কী হবে? এসব নানা প্রশ্নের মধ্য দিয়েই পহেলা জানুয়ারি-২০১৮ শুরু করা হয় বিদ্যালয়ের পাঠদান। পাশাপাশি জায়গা নির্ধারণ করে ভবন নির্মাণের তোড়জোড় চালিয়ে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুকুরেই পাওয়া যায় সম্পত্তি। কোনো প্রকার কালক্ষেপন বা অবহেলা না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি। সরকারি নিয়মনীতি মেনে সম্পত্তির কাগজপত্র ঠিক করে নেমে পড়লেন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজে। দান, অনুদান, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় রাত-দিন কাজ করে মাত্র ৬ মাসের মাথায় আজ দৃশ্যমান শাহরাস্তি ল্যাবরেটরী স্কুল। চারতলা বিশিষ্ট এ বিদ্যালয় আজ শাহরাস্তিবাসীর কাছে স্বপ্ন নয়, বাস্তব। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কতটা আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকলে এমন একটি যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় উক্ত স্কুলটি তার প্রমাণ। প্রথমদিকে অনেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ কর্মকান্ড দেখে এটিকে অনেকটা পাগলামি মনে করতেন। অনেকের মুখে বলতে শুনেছি, ওনি চলে গেলে স্কুলটির কী হবে? আর এখন সেই অনেকের মুখে কথা নেই। এতো অল্পসময়ে একজন নির্বাহী কর্মকর্তা কী করে এমন একটি মহৎ উদ্যোগ সফল করলেন? এ কর্মযজ্ঞ কীভাবে গড়ে উঠলো? বিদ্যালয়টি চারতলা ভবন করতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। রাত-দিন কাজ করতে হয়েছে নির্মাণ শ্রমিকদের। নির্মাণ কাজ তদারকিতে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ মারুফ নিজেই। উপজেলা পরিষদ থেকে বের হতে ও ঢুকতে দুবারই স্কুল পরিদর্শন করতেন তিনি। অনেক সময় রাত ২/৩টায়ও স্কুলের কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে। তিনি প্রমাণ করেছেন, কোনো কাজ করার জন্যে ইচ্ছেশক্তিই যথেষ্ট। আর থাকা চাই একটি ভালো মন, যা দিয়ে সবকিছু জয় করা সম্ভব। সুধীজন বলছেন, স্কুলটির প্রতিটি বালু-কণায় যাঁর হাতের ছোঁয়া বিদ্যমান সেই হাবিব উল্লাহ মারুফ শাহরাস্তিবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।


⇘সংবাদদাতা: রকি চন্দ্র সাহা

, , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে