বাঁশখালীর এক নৌকা ভক্ত জাগেরের কাণ্ড!

বাঁশখালীর এক নৌকা ভক্ত জাগেরের কাণ্ড!

শিব্বির আহমদ রানা, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: 'আমি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৬ কোটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার বিস্বস্ত ঠিকানা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে চলছে। নৌকাই একমাত্র আমার ভালোবাসার, ভালো লাগার প্রতীক। উন্নয়নের প্রতীক নৌকা। আমার চৌদ্দ পুরুষ আলীগের রাজনীতিতে জড়িত। আমাদের পুরো পরিবারটিই নৌকার পরিবার বলতে পারেন। খুব ছোটবেলা থেকেই নৌকাকে মন থেকে ভালোবাসতাম। নৌকা মানেই বঙ্গবন্ধু, নৌকা মানেই শেখ হাসিনা, নৌকা মানে বাংলাদেশের উন্নয়ন। এভাবেই বলতে থাকেন নৌকা প্রেমিক বাঁশখালীর জাগের হোসেন।'

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। বাঁশখালীর রাজনৈতিক মাঠ সরগম হতে দেরি নেই। বাঁশখালীতে নিজের হাতে বানানো নৌকা প্রত্যেক স্পটে দেখতে চায় নৌকা প্রেমিক জাগের হোসেন। বাঁশখালীতে যিনি নৌকার মাঝি হবে তাকেই তিনি তার বানানো নৌকা উপহার দিতে চান।

অার্থিক টানাপোড়নের সংসার জাগেরের। কোন রকম করে নিজে আয়ের উপর ভর করে চলে সংসার। সংসারে দু-ছেলে প্রতিবন্ধী। নিজে কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক মোস্তাক আহমদ এর বাড়ীতে কাজের লোকের কাজ করে। এখান থেকে যা পায় তা দিয়েই চলে তার সংসার। তার বাড়ীতে সারি সারি নৌকা। সব নিজের হাতে তৈরি করছে। নৌকা বানানোর প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করার ক্ষমতা তার নেই। আশাব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে তিনি। ওই টাকায় তিনি নৌকার প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করে নিরলস সময় দিচ্ছে। কালো কাপড় আর বাঁশের কঞ্চি, নানা রঙ্গে সোভা পাচ্ছে নিজ হাতে তৈরি নৌকা গুলো। কয়েক দিনে ২০ এর অধিক নৌকা তৈরি করেছে তিনি।

হঠাৎ করে ঋণ নিয়ে নৌকা বানানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। ভালোবাসি নৌকাকে। নৌকা আমার ভালোবাসার প্রতীক। মনের আনন্দ থেকেই একাজ করি। এতে করে আমার আত্মা খুশি হয়। মনে প্রশান্তি খুঁজে পাই।' নৌকা গুলো তিনি বিক্রি করবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, 'বিক্রি করার জন্য নয়। বাঁশখালীর নৌকার মাঝি মোস্তাফিজকে উপহার দিতে চাই নৌকা গুলো। অনেকে আবার নিয়ে যাচ্ছে বখশিশ দিয়ে।'

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মিয়ার বাড়ী মালদারী পাড়ার মৃত নুর আহমদের ছেলে জাগের হোসেন (৭০)। ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের জনক তিনি। আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন খুব ছোটবেলা থেকে। বর্তমানে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্বে আছেন তিনি। নিজের কোন পৈতৃকসম্পত্তি নাই। কোন রকম অার্থিক টানাপোড়নে কাটে তার সাংসারিক জীবন।

⇘সংবাদদাতা: শিব্বির আহমদ রানা

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে