বকশীগঞ্জে গ্রাম আদালতের সুফল, গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রামেই

বকশীগঞ্জে গ্রাম আদালতের সুফল, গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রামেই

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তরের পাহাড়ি জনপদ ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন। গারো পাহাড়ের ঝরনার পানি বাধ দিয়ে আটকিয়ে সেই পানিতে মাছ চাষ করত বালিঝুড়ি গ্রামের আদিবাসি সম্প্রদায়ের এলিন রিছিল। মাছ চাষে বেশ লাভ জনক হওয়ায় এবারও ঝরনার পানিতে মাছ চাষ করেন। কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার জহুরুল হক রাতের আধারে এলিন রিছিলের মাছ চাষের বাঁধ কেটে দিয়ে সব মাছ বের করে দেয়।

এনিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়। এলিন রিছিল ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে গত ১০ মার্চ ২০১৮ তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে প্রতিবাদী (বাদী ) করা হয় অভিযুক্ত জহুরুল হককে। মামলা নং-১০/১৮।

মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্ত করে গ্রাম আদালতের প্রতিনিধিরা। তদন্তের পর গ্রাম আদালত রায় ঘোষনা করেন। গত ১৩ মার্চ ২০১৮ তারিখে মামলার ঘোষিত রায়ে প্রতিবাদী জহুরুল হককে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের মাধ্যমে এলিন রিছিল ও জহুরুল হকের মধ্যে সৃষ্টি দ্বন্দ্বের অবসান হয়। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুবিচার পায় এলিন রিছিল।

শুধু এলিন রিছিল নয় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অনেক সমস্যা এখন সমাধান হচ্ছে গ্রাম আদালতে।

হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার , ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতায় এবং মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের কারিগরি সহযোগিতায় “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পযায়) প্রকল্পের মাধ্যমে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে।

মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭২ টি মামলা গ্রাম আদালতে দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিয়নে ২২৭ টি মামলা নিষপত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৩২০ টাকা এবং ৪২ শতাংশ জমি আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও আরো ১৫ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গ্রাম আদালতে মামলা করতে হলে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি নেয়া হয়। এর মাধ্যমে অভিযোগকারী ও প্রতিবাদীর মধ্যে সামাজিক অনেক দ্বন্দ্ব নিরসন হচ্ছে। গ্রামের সমস্যা জেলা আদালতে নয় এখন গ্রাম আদালতেই সমাধান মিলছে। এ এ জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

গ্রাম আদালতে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া ও ছোট ছোট বিবাদ নিয়ে মামলা করা যায়। গ্রাম আদালতের বিচারক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামলা আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে শুনানীর মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বাক্ষীর মাধ্যমে মামলা নিষপত্তি করে থাকেন। তবে ৭০ হাজার টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ হয় এমন মামলা গ্রাম আদালতে গ্রহণ হয় না।

গ্রাম আদালত চালু হওয়ায় সেবা ও সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ। অল্প টাকায় , স্বল্প সময়ে গ্রাম আদালতে সমস্যার সমাধান হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখন গ্রাম আদালত মুখি হচ্ছেন।

গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষে গ্রহণ করেছেন। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন করে গ্রাম আদালত সহকারী।

উপজেলা পযায়ে অবহিত করণ সভা ও ইউনিয়ন পযায়ে কমিউনিটি সভার করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদাসীনতার কারণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু বলেন, 'আমরা আলাপ-আলোচনা করে কাগজ দেখে সুষ্ঠু সমাধান দিই। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লিচু বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার সমাধান দেয়া হচ্ছে । এতে করে মানুষের ভোগান্তিও কম হচ্ছে।

মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের বকশীগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী গোপাল চন্দ্র দাস বলেন , আমরা গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে গ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ অল্প সময়ে ও কম খরচে তাদের হাতের কাছে সহজ উপায়ে বিচার পাচ্ছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটায় কমে গেছে। তিনি গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ও শক্তিশালী করতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

, , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে