‘বিএনপিকে বাঁচাতে হলে রিজভীর মত দুর্বৃত্তদের দলছাড়া করতে হবে’

‘বিএনপিকে বাঁচাতে হলে রিজভীর মত দুর্বৃত্তদের দলছাড়া করতে হবে’

সেবা ডেস্ক: জনগণের প্রবল আন্দোলনের খরস্রোত ধেয়ে আসছে বলে সতর্কতা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই দেশ কখনো অন্যায় মেনে নেয়নি। সোমবার (৭ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন । এদিকে রিজভী আহমেদের এমন কাব্যিক আন্দোলনের ডাককে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

তার মতে, নালিশ ও স্বপ্নে দেখা আন্দোলনের নামে আগামী পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়ে বিএনপি মূলত রাজনীতির নামে দলটির নেতা-কর্মীদের নিয়মিত চাঁদা আদায় করে নিজেদের ভরণপোষণ এবং লন্ডনে অর্থ পাঠানো অব্যাহত রাখবে। কারণ নেতা-কর্মীরা রাজনীতির নামে বিভিন্ন রকমের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে না খেয়ে উপোষ থাকতে হবে রিজভী আহমেদের মত পরনির্ভরশীল নেতাদের।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনরায়ে প্রত্যাখ্যাত বিএনপি এলোমেলো হয়ে পড়েছে। দলটির ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে পেরে এরই মধ্যে দলটির সচেতন নেতা-কর্মীরা দলত্যাগ করছে। বিএনপির মরণদশা থেকে মুক্তির কোন রাস্তা না দেখতে পেয়ে সারাদেশের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা দল ত্যাগ করছেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। অনেকে দলবিমুখ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে চাঁদা দিতে দিতে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। অনেক আশা নিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করতে অনেকেই সর্বশেষ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফল শূন্য বলা যায়। মাত্র ৫ জন প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছেন। বেশিরভাগ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো পরাজিত প্রার্থীরা যে যার অবস্থায় ভালোমতো জীবন যাপন করছেন। তৃণমূলের আশাহত কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির কোন পরিকল্পনা চোখে পড়েনি। শুধু শুধু মৌখিক আন্দোলনের কথা বলে কর্মীদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি। তবে সত্য অনুধাবন করে বিএনপির কর্মীরা দল থেকে সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রিজভী আহমেদের আন্দোলনের ডাককে মিথ্যাচার এবং প্রতারণা দাবি করে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি শোচনীয় পরাজয়ের পর কর্মী শূন্যতায় ভুগছে। নেতা-কর্মীরা বুঝতে পেরেছেন যে বিএনপির মত দল আর কোনদিন দেশবাসীর বিশ্বাস অর্জন করে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। কারণ বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়দাতা, দলটি দুর্নীতিবাজদের আড্ডাখানা, কমিশনখোরদের অভয়াশ্রম। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশ ততবার পিছিয়ে গেছে। বিএনপির কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে বার বার লজ্জায় পড়তে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সরকার বাংলাদেশ শুধু বদনাম এনে দিয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তৃণমূল কর্মীদের অবহেলা, অবমাননা করেছে। এর পরেও শুধু ভালোবাসার জায়গা থেকেই বিএনপিকে সমর্থন করতো কর্মীরা। কিন্তু বিগত ১০ বছরে দলটি স্বপ্নে দেখা আন্দোলনের নামে কর্মীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার কাছে তথ্য আছে যে, বিগত ১০ বছরে অনেক কর্মীরা চাঁদা দিতে দিতে প্রায় পথের ফকির হয়ে গেছেন। অথচ আসল সত্য হলো, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করেছেন, লন্ডনেও পাঠিয়েছেন। কর্মীরা প্রতিবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতিবার তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে রিজভী আহমেদের মত কিছু পরনির্ভরশীল নেতার কারণে।

সুতরাং বিএনপির কর্মীরা দলবিমুখ হবেন সেটিই স্বাভাবিক। রিজভী আহমেদের মত আদার ব্যাপারীদের কারণে বিএনপি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে ইতিহাস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিএনপিকে বাঁচাতে হলে রিজভী আহমেদের মত দুর্বৃত্তদের দলছাড়া করে পার্টি অফিস থেকে বের করে দিতে হবে।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 মন্তব্য(গুলি)

Comments Please