
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া : বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ ও আমদানি নির্ভর মসলার চাষ বৃদ্ধিতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের হলরুমে কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুন্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একেএম আজাদ-উদ-দ্দৌলা প্রধান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার। তিনি জানান, মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানসম্মত মসলার বাণিজ্যিকীকরনের মাধ্যমে লক্ষ স্থিত জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় প্রধান মসলা ফসল যেমন, পেঁয়াজ (রবি), মুড়িকাটা পেঁয়াজ, গ্রীষ্মকালীন পেয়াজ, পেয়াজের বিকল্প পাতা পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, ধনিয়া পাতা ও বীজ, হলুদ, পুদিনা পাতা, মেথি গোল মরিচ, কালোজিরা, দারুচিনি, তেজপাতা, বিলাতিধনিয়া, আলুবোখারা, পান, সুপারি, পানবিলাস ইত্যাদি মসলা জাতীয় ফসলের উচ্চ ফলন ও গুণসম্পন্ন এবং পরিবর্তিত জলবায়ু সহনশীল উপযোগি নতুন জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্তিকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা।
কর্মশালায় আলোচকগণ জানান, চাহিদার কারণে কিছু বিদেশি মসলা দারুচিনি, গোলমরিচ, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, জিরা, আলুবোখারা জয়ফল ইত্যাদি আমদানি নির্ভর। এই অমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। আমদানি খরচ কমাতে এই মসলাগুলোর গবেষণায় সফল হয়ে চাষ ও ফলন বৃদ্ধি করতে হবে। মসলা ও মসলা দ্রব্যের চাহিদা মেটাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, ক্ষুধামুক্ত ও পুষ্টিমান যুক্ত খাদ্যের জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে কৃষির বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হবে। উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে আমাদের আর কোন কালেই সংকট হবে না।
⇘সংবাদদাতা: নিজস্ব প্রতিবেদক

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।