ধুনট থেকে ভারতে পাচার মেয়েকে ফিরত চায় বাবা

ধুনট থেকে ভারতে পাচার মেয়েকে ফিরত চায় বাবা
রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া): বগুড়ার ধুনট উপজেলার পল্লী থেকে ভারতে পাচার হওয়া সহিদা খাতুনকে (২০) ফিরে পেতে তার দিনমজুর বাবা তিন বছর ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্ত মেয়েকে পাবার কোন আশার আলো দেখছেন না। ফলে মেয়ের চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে মা-বাবাসহ তার স্বজনরা।

সহিদা খাতুন উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের নসরৎপুর গ্রামের দিনমজুর আবুল কালামের মেয়ে। আর দশ জন নারীর মতই সংসার বাধার আশায় বিয়ে করে সহিদা। কিন্ত তার সংসার গড়া হয়নি। হাতের মেহেদী না শুকাতেই স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরতে হয়। কিন্ত দিনমজুর বাবার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকতে চায়নি সহিদা। তাই জীবিকার তাগিদে ২০১৫ সালে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি নেয়।

সেই কর্মস্থলে বিউটি নামে পরিচয়হীন এক সহকর্মীর সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিউটি তাকে চট্টগ্রামে ভাল বেতনে অন্য একটি চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেয়। বিউটির কথার বিশ্বাস করে সহিদা বিপদের পথে পা বাড়ায়। গত ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারী বিকেলে সহিদা বাড়ি থেকে বিউটির হাত ধরে বের হয়। কিন্তু সহিদা বুঝতে পারেনি বিউটি পাচারকারী দলের সদস্য।

এদিকে সহিদার মা-বাবা আশায় বসেছিল মেয়ে ভাল বেতনে চাকুরি পেয়ে সংসারের অভাব ঘুচাবে। কিন্ত তাদের সেই আশার বানী বিষাদের সুর হয়ে বাজবে তা কখনও ভাবেনি। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারী মোবাইল ফোনের +৯১৯০৩২৪৩০৮৫ নম্বর থেকে বাবার সাথে কথা বলে সহিদা। সহিদা তার বাবাকে জানান, ভারতের অজ্ঞাত একটি হোটেলে আটক রেখে তাকে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত করেছে পাচারকারীরা। সেখান থেকে মুক্ত হতে চায়। কথা শেষ না হতেই সহিদার ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সহিদার কোন সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় সহিদার বাবা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাব্যুনাল-২ এ  মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের কুড়াল শাহজাহান হাওয়ালদার ও তার স্ত্রী এবং ভাইকে আসামী করা হয়। এই মামলাটি প্রথমে ধুনট থানা পুলিশ ও পরে বগুড়া সিআইডি থেকে তদন্ত করা হয়েছে। দুই দফা তদন্তে ওই মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি দেওয় হয়।

সহিদার বাবা আবুল কালাম জানান, আর্থিক সংকটের কারনে মামলাটি পরিচালনা করতে পারছেন না। মেয়েকে ফিরে পেতে তিন বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন কাজ হয়নি। তাই মেয়েকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চেয়েছেন তিনি।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please