বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা হোক সমাজের আয়না!

বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা হোক সমাজের আয়না!


জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন যাদের ছুটে চলা, বস্তুনিষ্ঠ তথ্যানুসন্ধান করে জনতার আয়নায় প্রতিদিনকার ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে যারা, তারাই সাংবাদিক। এদের কাজ খুবই কণ্ঠকাকীর্ণ। এরা একটা নিভু সমাজকে আলো দেয়। এদের প্রাপ্তির চেয়ে দেওয়াটা বিশাল। এদের দ্বারা সমাজ, দেশ পরিবর্তন হয়। একজন অসহায় মানুষের পাশে, মুমূর্ষু মানুষের পাশে, দূর্বল মানুষের পাশে, নিরীহ মানুষের পাশে এদের  শাণিত কলম সবসময় মসৃণ।

ঝড়ে পড়া জীবনের পূর্ণতা দেয় এরা, এদের লেখনিতে পরিবর্তন হয় মানুষের অমানবিক চরিত্রগুলো। এরা জনদূর্ভোগ তুলে ধরে, সম্ভাবনা, সমস্যার সচিত্র ধারণ করে। এরা ছুটে চলে তথ্যানুসন্ধানে। অসহায় মানুষ গুলো যখন বলে- ভাই, আমার একমাত্র চলার পথটি জোর করে দখল করেছে, আমার জমিটা জবর দখলে নিয়েছে, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমনকী মৃত্যুর হুমকীও দিচ্ছে, আমার মেয়েকে যৌতুকের দায়ে ফাঁসি দিয়েছে, বাবাকে মাতাল ছেলেটি হত্যা করেছে, এলাকার মোড়লের যোগসাজশে আমার প্রতি অবিচার করেছে, আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে, আমরা গরীব মানুষের জন্য সরকারী সুবিধাগুলো ক্ষমতাসীনেরা আত্মসাৎ করেছে, থানায় গিয়েও বিচারটা পাইনি! এভাবে অহরহ ইস্যু নিয়ে অসহায় মানুষ গুলো জাতীর বিবেক সাংবাদিকের পাশে আসে। তারা মোড়লের দাপটকে, মাস্তান-সন্ত্রাসের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দু'কলম লিখে তাদের মুখোশ জনতার মহলে তুলে ধরে। এতে অন্তত খারাফ চরিত্রের লোকগুলো বিগড়ে যায়।

সাংবাদিক শুধু সমাজের ভালো মানুষগুলোকে প্রেষণা দেয়, জ্ঞানীদের প্রণোদনা দেয়, সম্ভাবনাগুলোকে আরো জাগ্রত করে তা নয়; তারা অপরদিকে ডাকাত, মাস্তান, চোর, সন্ত্রাস, বড় বড় ডন, গডফাদার, ক্ষমতাসীন সেজে বড় বড় দুর্নীতিবাজ, প্রশাসনের কালো মুখের মুখোশ উন্মোচনও করে। এদের কাজ খুবই কণ্ঠকাকীর্ণ। বন্দুকের নল, বুলেটের ছোড়াছুড়ি উপক্ষেকা করে এদের সংবাদ সংগ্রহ চলে নিত্যদিন। এদের লাঞ্চিত হতে হয়, নির্যাতীত হতে হয়, জেল জুলুমও আছে জাতীর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকারীদের।  এরা ঝড়ঝাপটা মাড়িয়ে চলে, এরা দুর্বার, এরা সবার তরে, এদের কাজই সমাজের সচিত্র তুলে ধরা। যার ফলে, কারো মুখোশ উন্মোচিত হয় আর কারো অধিকার প্রতিষ্টিত হয়। এর সবসময় খারাফ তাদের কাছে, যারা সমাজকে চুষে খাচ্ছে, অসহায়গুলোকে পাঁজরভাঙ্গা করে দিচ্ছে, সীমাহীন দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে, বিচারের নামে টাকা খেয়ে সবলের পক্ষে রায় দিচ্ছে, উন্নয়নের বাজেট খেখো হয়ে গিলে খাচ্ছে লাখ লাখ হাজার কোটি টাকা, আরামের চেয়ারে বসে জনতার সেবক সেজে কালো টাকার পাহাড় গড়েছে, নিত্য শোষণের মধ্য দিয়ে নিজেদের আমিত্ব জাহির করছে। সমাজের নীরব ঘাতকগুলোর কাছে সাংবাদিক চাঁদাবাজ খ্যাত পায়, ধান্ধাবাজ বলে কটুকথা বলে! তবে, ব্যতিক্রম আছে- এ জন্য ভালোদের মুল্যায়ণ করে কথা বলা উচিত।

তবে, হলুদ সাংবাদিকতার কারণে অনেকে আজ পেশার স্বকীয়তায় চরমভাবে কষ্ট পাচ্ছে। আঁধারে আলোর খেলা সবসময় চলমান ছিল, থাকবে। সময়ের কাছে একদিন হলুদ সাংবাদিকতা ঠিকই নির্বাসিত হবে।   হলুদ সাংবাদিতা ক্ষণকালের জন্য জন্ম নেয়। তবে মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্টার জন্য হোক সাংবাদিকতা। জাতীর বস্তুনিষ্ট কলম সৈনিকদের জন্য সবসময় শুভ কামনা। যারা অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের শাণিত কলম আরো আরো মসৃণ হোক।।।

শিব্বির আহমেদ রানা

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please