কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই কমিটিতে দুই বিয়াইয়ের নাম

কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই কমিটিতে দুই বিয়াইয়ের নাম


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কমিটিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় আপন দুই বিয়াই এর নাম বাতিলের দাবিতে এবং আসছে ৬ ফেব্রæয়ারী যাচাই-বাছাইয়ের ধার্য্য তারিখ স্থগিত চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুড়িগ্রাম জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। গত ৪ ফেব্রæয়ারি দুপুরে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। 
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য (জাতীয় পার্টি) কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, পিতাঃ মৃত- নিধি মামুদ, গ্রামঃ মুন্সিপাড়া, কুড়িগ্রাম পৌরসভা, কুড়িগ্রাম। সে মুক্তিযোদ্ধা হলেও প্রকৃত পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না। যেমন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে তাদের সহযোগিতায় বিধি বহির্ভূত নির্বাচিত কমিটিকে বাদ দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহŸায়ক হয়ে যান। বিএনপি-জামাত জোটের মদদে আহŸায়ক হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার গর্ব প্রয়াত বীর প্রতীক তারামন বিবি সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় কুড়িগ্রাম জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে তাদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। ঐ সময়ে জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় এই খবরটি ফলাও ভাবে প্রকাশিত হওয়াতে তৎকালিন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আহŸায়ক পদ থেকে তাকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু তাই নয় নুরুজ্জামান একজন উগ্র প্রকৃতির লোক। মহান স্বাধীনতা অব্যবহীত পর থেকে সব সময় সে আমাদের জাতির প্রতিষ্ঠাতা বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সব সময় ‘বঙ্গবল্টু’ বলে আখ্যায়িত করে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার কাছে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিভাবক একমাত্র আশ্রয়ের স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে এমন সব উৎভট মন্তব্য করে যা ভাষায় প্রকাশ করা সমিচিন নয়। বিএনপি-জামাত ঘড়ানার একটি গ্রæপের সদস্যরাই তার অন্তরঙ্গ বন্ধু। এই গ্রæপটি সব সময়ের জন্য বর্তমান সরকার এবং সরকার প্রধান সম্পর্কে সব সময়ের জন্য বিরুপ মন্তব্য ও বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে চলছে। অপরদিকে জামুকা কর্তৃক পূর্বে মনোনীত সদর উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এম.এ ওয়ারেছ নাম পরিবর্তন করে গত ৩ ফেব্রæয়ারি ২০২১ইং আব্দুল বাতেন পিতা মৃত- ফজর উদ্দিন, পূর্ব কল্যাণ বেলগাছা, কুড়িগ্রাম এর নাম নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। নুরুজ্জামান ও আব্দুল বাতেন এরা সম্পর্কে আপন বিয়াই। কুড়িগ্রাম জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা মনে করছেন, আব্দুল বাতেন ও নুরুজ্জামান পরম আত্মীয় একই পরিবারের লোক বলা যেতে পারে। সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে আপন দুই বিয়াই থাকলে তাদের উদ্ধাত্য আচরণ এবং পক্ষপাতিতের কারণে এই কমিটিকে প্রভাবিত করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে তালিকায় ৩০ জনের নাম এসেছে সে তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম টুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ ওয়ারেছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী প্রমূখ। বক্তারা বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম কমিটি থেকে বাতিল করে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান। সেই সাথে ৬ ফেব্রæয়ারি যাচাই-বাছাই স্থগিত চাওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Dara Computer Laptops