বাঁশখালীতে শিমের বাম্পার ফলনে চড়া দাম পেয়ে খুশিতে কৃষক

বাঁশখালীতে শিমের বাম্পার ফলনে চড়া দাম পেয়ে খুশিতে কৃষক



শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বাঁশখালীতে শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় শিমের আবাদ হয়েছে ব্যাপকভাবে। 

শীতকালিন শিমের পাশাপাশি আগাম চাষাবাদ হওয়ায় শিমের কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিমের কদর বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের শিম চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা যায়। 

ভৌগলিক কারণে বাঁশখালীর অবাদী জমি সহ পাহাড়ি এলাকা চাষাবাদের উপযোগী থাকায় বিভিন্ন সবজির চাষবাদ হয় এই এলাকাটিতে। 

এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিমের চাষ করা হয়েছে। খালি জমি, রাস্তার আশে পাশে হতে শুরু করে পাহাড়েও শিমের আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, বাঁশখালীতে এবার ৩০০ হেক্টর জমিতে দেশীয় ও ফরাস জাতীয় শিম চাষ হয়েছে। 

বাঁশখালী শিম চাষের উর্বর জমি হওয়ায় চাষীদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণ করা হচ্ছে চলেও জানান কৃষি অফিস। 

আগাম শিম চাষাবাদে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছে। শীতকালীন শিম বাজারে আসায় ভোক্তাদের মধ্যে বেশ চাহিদা রয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন উঁচু এলাকায় শিমের চাষাবাদ হয়ে থাকে। উপজেলার পুঁইছড়ি, নাপোড়া, চাম্বলের পাহাড়ি জমি, শিলকুপের পাহাড়ী ও আবাদী জমি, জঙ্গল জলদী, পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর, বৈলছড়ি, সরল, খানখানাবাদ ও গন্ডামারা এলাকায় প্রচুর পরিমাণ শিম উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিদিন চাষীরা ক্ষেত থেকে শিমগুলো তুলে এনে বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন।

উপজেলার শিলকুপ, পুঁইছড়ি, জঙ্গল চাম্বল, জঙ্গল জলদী, কালীপুর এলাকায় এই শিমের আবাদ হয়েছে প্রচুর। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাঁশখালীর বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে ভীড় করছে। পাইকার এই সকল শিম বিভিন্ন দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায়। 

এবার বাঁশখালীতে ৩৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো, যা সরল, গন্ডামারা, বৈলছড়ি, চাম্বল, পুইছড়ি ও শীলকূপে বেশির ভাগ হয়ে থাকে । 

৭৫ হেক্টর জমিতে বাঁধা কপি, ৪৪০ হেক্টর জমিতে বেগুন, যা শীলকূপ, সাধনপুর, সরল, বৈলছড়ি, চাম্বল, পুঁইছড়িতে বেশি উৎপাদন হয়। 

৭০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ৪৬০ হেক্টর জমিতে মূলা, ৫ হেক্টর জমিতে বাটি শাক, ৫০ হেক্টর জমিতে লাল শাক, ১০০ হেক্টর জমিতে বরবটি, ৩৫০ হেক্টর জমিতে দেশী শিম, ৩০০ হেক্টর জমিতে লাউ এবং ১২০ হেক্টর জমিতে তীত করলা, ১৪০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া মিলে শীতকালীন সবজি, মসলা ফসল সহ মোট ২৮০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিস।

শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর বাঁশখালীর হাঁটবাজারগুলো। শহুরে পাইকারের ভীড় জমাতে দেখা যায় শীতকালীন সবজির বাজারগুলোতে।বর্তমানে বাঁশখালীর প্রতিটি হাট বাজারে শীতের সবজি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। 

একেবারে প্রথমদিক থেকে সবজির দাম বাড়তি থাকলেও বর্তমানে সবজির দাম একটু কমেছে। সাধারণ ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে সবজির বাজার। 

বাঁশখালীর প্রধান সড়কের সাহেবের হাট, গুনাগরী, বৈলছড়ি বাজার, শিলকুপের টাইম বাজার, নাপোড়া বাজার ও চাম্বল বাজার এলাকায় প্রতিদিন সকালে প্রচুর পরিমাণ শীতের সবজি বিক্রি হয় পাইকারিভাবে। 

পাইকারি ক্রেতারা তা চাষীদের কাছ থেকে কিনে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল মুনাফার মাধ্যমে রপ্তানি করে থাকে।

শিলকুপের পূর্ব-মনকিচর এলাকার কৃষক মু. মোজাম্মেল হক হোছেন বলেন- ‘আমি দেড় কানি মতো শিমের চাষ করেছি। আমার ক্ষেতে এবার প্রচুর পরিমাণ শিম উৎপাদন হয়েছে। আমরা পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ৫০/৬০ টাকা বিক্রি করলেও ব্যবসায়ীরা তা আরো চড়া দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। আমরা পাইকারীভাবে বিক্রি করতে গিয়ে সেই দাম পাই না। অথচ হাতবদলের পর নানাভাবে দাম বাড়তে থাকে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু ছালেহ বলেন, ‘এবার বাঁশখালীতে প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। 

স্থানীয় হাট-বাজার গুলোতে সবজির যথেষ্ট সয়লাভ হয়েছে। সাধারণ চাষীরা আগাম সবজির চাষ করে সন্তুষ্টজনক দাম পেয়ে খুশি। 

তিনি আরো বলেন- 'চট্টগ্রামের অধিকাংশ সবজির চাহিদা যোগান দেয় বাঁশখালী উপজেলা। বাঁশখালী থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকবোঝাই সবজি শহরের বিভিন্ন বাজারগুলোতে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাঁশখালীর কৃষকদের শিমের আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।'

  


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।