কাজিপুর সরকারী মনসুর আলী কলেজে শেখ রাসেল দিবস পালিত

🕧Published on:

: গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জি অনুযায়ী ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নির্মাণাধীন বাড়িতে, মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্ম। সদ্যোভূমিষ্ঠ শিশুর মায়ামাখা চপল চাহনির নিষ্পাপ নির্মলতায় খুশির বন্যা বয়ে যায় বাড়িতে। কে তাকে কোলে নেবে, কে আদর করবে, চোখের কাজল পরাবে কে, নরম তুলতুলে গায়ে কে মাখিয়ে দেবে পাউডার—এ নিয়ে সারা দিন ব্যতিব্যস্ত সময় কাটতে থাকে সবাই। সেই শিশু শেখ রাসেলের আজ জন্মদিন “রাসেল দিবস।  

কাজিপুর সরকারী মনসুর আলী কলেজে শেখ রাসেল দিবস পালিত



 নানা আয়োজনে এই দিবসটি পালন করে কাজিপুর সরকারী মনসুর আলী কলেজ।দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্র্থীগণ এক আনন্দ র‌্যালি বের করে।দিবসটি উপলক্ষে কলেজের শিক্ষার্র্থীরা রাষেলের জীবনী বিষয়ে বিশেষ দেয়ালিকা প্রকাশ  ও মিস্টি বিতরণ করে।এরপর কলেজে ক্যাম্পাসে  বৃক্ষরোপণ করা হয়।


 পরে কলেজের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও রাসেল দিবস আয়োজক কমিটির আহবায়ক মাহসুদুল হক মাজেদ। ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শিবু চন্দ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এসময় তিনি বলেন. ‘বড় বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং বড় ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামালের নয়নের মণি ছিলো শিশু রাসেল। রাতের ঘুম শেষে, বাবা মুজিবের প্রশস্ত বুকের ওপর ছোট্ট পাখির মতো শুয়ে শরীরের উষ্ণতা নিত সে। বঙ্গবন্ধুর হৃদপিন্ডজুড়ে প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে ধমনির স্পন্দনে তখন স্বৈরাচার আইয়ুববিরোধী স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। সামরিক স্বৈরশাসকের গ্রাস থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, রাজনীতির উত্তাল সাগরে আশার তরণি ভাসিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশের তরুণ প্রজন্মের নিউরনজুড়ে তখন মুক্তির স্বপ্ন ডানা মেলতে শুরু করেছিল, ঠিক এ রকম একটি সময়ে ছোট্ট রাসেলের মুখেও আধো আধো বুলি ফুটতে শুরু করে।কিন্তু ঘাতকের বুলেট এই শিশুকেও বাঁচতে দেয়নি। আজ সে বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ঠিক ৫৮ বছর।আজ তার জন্মদিনে আমরা তার জন্যে তার পরিবারের জন্যে প্রার্র্থনা করছি।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম শেখ রাসেলের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শিশু রাসেলের বয়স তখন দেড় বছর। পরিবারের সবার সঙ্গে জেলবন্দি বাবাকে দেখতে সেই ছোট থেকেই কারাগারে যেত রাসেল। অবুঝ রাসেল বাবাকে জড়িয়ে ধরে বুকের ওম নিত, জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চাইত। ছোট আপা রেহানার চিঠি পকেটে করে নিয়ে জেলগেটে বাবাকে দিত। বাবাকে রেখে আর আসতে চাইত না। রাসেলকে বোঝানো হয়েছিল যে জেলটাই তার বাবার বাড়ি। অবশেষে বাবাকে রেখে ফেরার সময় কখনো মা ফজিলাতুন নেছা আবার কখনো মলিনমুখে হাসু আপার কোলে উঠত।বাবার অবর্তমানে পিতৃস্নেহবঞ্চিত রাসেল নিজের আম্মাকেই আব্বা বলে ডাকতে শুরু করেছিল। কী নিদারুণ এক শোকাবহ শৈশব। যিনি বাংলা নামের দেশটির স্বাধীনতা এনে দিলেন তাঁর শিশুপুত্রের অকাল মৃত্যু। ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। আজ এইদিনে আমরা বঙ্গবন্ধু.  ও তার পরিবারের শাহাদৎবরণকারী সকলের আত্মার শান্তি  কামনা করছি।রাসেলের শিশুমনের চাওয়াগুলো আজ হাজারো বাঙালির সন্তানদের মাঝে বেঁচে থাকুক, তার জন্মদিনে এই কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিঞ্জান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন মিয়া, প্রণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অ্ধ্যাপক আব্দুর রহিম, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অ্ধ্যাপক ড, আব্দুর রহমান, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবীব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মুশফিকুর রহমান প্রমূখ। 



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।