ফখরুল-মওদুদের উত্তাপে লন্ডনে ফিরে গেলেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান
ফখরুল-মওদুদের উত্তাপে লন্ডনে ফিরে গেলেন কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান

returned to London in the heat of Fakhrul Moudud

সেবা ডেস্ক: ফখরুল ও মওদুদের স্তম্ভের কাছে টিকে থাকতে না পেরে বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গেলেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমার সিঁথি ও তার দুই মেয়ে জাফিয়া ও জাহিয়া। ১৫ এপ্রিল রোববার সকাল সাড়ে ৮টার ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশ ছাড়েন।

বিএনপির এক সূত্র থেকে জানা যায়, শর্মিলা রহমান গত ২৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন। সে সময় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে ম্যাডাম শর্মিলা রহমানকে দলের হাল ধরতে নির্দেশ দেন। তার কথা মতো ফখরুলকে বাদ দিয়ে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে একাধিক বৈঠকও করেন শর্মিলা। কিন্তু এতে রেগে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন।


এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের পক্ষ থেকে এক সিনিয়র নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপির রাজনীতি কলকাঠি নাড়ছেন মির্জা ফখরুল ভাই। অথচ তার অবর্তমানে শর্মিলা ম্যাডাম মির্জা আব্বাসসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কিসের স্বার্থে, তা আমাদের বোঝার বাকি থাকে না। সবার মনে রাখতে হবে বিএনপি কোনো পারিবারিক দল নয়। এটির একটি নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে।
আরও পড়ুন>>সাপাহারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা মেলায় দর্শনাথীর ভীড়নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা যায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাদের পরিবারের তিন সদস্য: খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তারেকের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে প্রবেশ করাতে বেশ তোড়জোড় চালানো হয়। কিন্তু মির্জা ফখরুল ও মওদুদ আহমেদের নজরদারিতে তা করা সম্ভব হয়নি।


এ প্রসঙ্গে তারেকপন্থী এক নেতা বলেন, দলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব খানিকটা বেশামাল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে তৃণমূলে চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মির্জা ফখরুল ও মওদুদ আহমেদ। মূলত দলে এ দুইজনের প্রভাব কমাতেই পরিবারে উক্ত তিন জনকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় তারেক রহমান। কিন্তু ফলাফল হিতে বিপরীত হলো।
আরও পড়ুন>>শাহরাস্তিতে অপরুপা নাট্যগোষ্ঠীর র‍্যলি ও আলোচনা সভা
একদিকে খালেদা জিয়া কারাগারে অপরদিকে তার ছেলেও ফেরারি আসামি হয়ে অবস্থান করছেন লন্ডনে। এমতাবস্থায় দলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই পরিবার থেকে একজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু ফখরুল-মওদুদের নেতৃত্ব দলে অনেক শক্ত অবস্থান তৈরি করায় শর্মিলার দেশত্যাগ প্রমাণ করে দিয়েছে, দলে জিয়া পরিবারের অবস্থান কতোটা নাজুক। ফলে ভবিষ্যতে বিএনপি থেকে জিয়া পরিবার তাদের নেতৃত্ব হারাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।