সবুজে ঘেরা আধুনিক নগরী গড়া লিটনের লক্ষ্য

সবুজে ঘেরা আধুনিক নগরী গড়া লিটনের লক্ষ্য

সেবা ডেস্ক: রাজশাহী শহরকে সবুজে ঘেরা আধুনিক নগরী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকা প্রতিক নিয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। 

এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হলে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, নগরীর স্বাস্থ্য সেবা খাতকে ঢেলে সাজানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বস্তির মানুষের জন্য আরামদায়ক বাসস্থান নির্মাণসহ রাজশাহীকে এশিয়ার মধ্যে একটি অন্যতম বাসযোগ্য শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি নগরীর আয়তন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।

ভোটারদের কাছে বাসাবাড়ির বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর আশ্বাস দিয়ে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সদ্য সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দেড় বছরেও হোল্ডিং ট্যাক্স কমাতে পারেননি এবং কোনো পদক্ষেপও নেননি। সিটি করপোরেশনের আয়ের খাতগুলো আমি জানি। কাজেই হোল্ডিং ট্যাক্স যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, মেয়র হলে তা কমিয়ে আনতে পারব।

বর্তমান নগরীর পরিসর ৭৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩৫০ বর্গকিলোমিটার করতে চান লিটন। তিনি বলেন, রাজশাহী নগর পুলিশের নতুন ১২টি থানা এলাকা নিয়ে আমরা সিটি কর্পোরেশনের নতুন এলাকা ঘোষণা করতে চাই। তাহলে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হবে। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নির্মাণ, বড় বড় রাস্তা, লেক, খেলার মাঠ, দর্শনীয় স্থান, বিনোদনমূলক জায়গা, সাংস্কৃতিক এলাকা সবকিছু মিলিয়ে একটি চমৎকার শহর গড়ে তুলতে চাই। রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুরের মতো এশিয়ার মধ্যে একটি অন্যতম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

নগরীতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অঞ্চল করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, শিল্পায়ন করে অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি করতে চাই, যেন অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হয়। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক হচ্ছে। সেখানেও কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

নগর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ওয়ার্ডে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নগরীতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার আছে ১৬টি। এর মধ্যে দুটি মাতৃসদন। এগুলোকে আরও গতিশীল করতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে হেলথ কেয়ার সেন্টার করতে চাই। মাতৃসদনের সংখ্যা আরও বাড়াতে চাই।

বিমান ও ট্রেন যোগাযোগের মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করা সহজেই সম্ভব। চার হাজার থেকে ছয় হাজার ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করলেই এখানে আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামা করতে পারবে। আম, লিচু ও সবজি রফতানি করে অর্থ আয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রাজশাহী থেকে ঢাকায় একটি বিরতিহীন ট্রেন এবং রাজশাহী-কলকাতা একটি ট্রেন চালু করা দরকার। চেষ্টা করছি এসব বিষয়ে কাজ করার।

নিজের মেয়াদকালের উন্নয়নকাজগুলো সম্পর্কে লিটন বলেন, আমার অনুমোদন করে আনা অনেক প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি। পরে যিনি মেয়র হলেন, জানিনা কী কারণে তিনি প্রকল্পগুলো শুরুই করতে চাইলেন না। তার অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, নাকি চাননি- সেটা বলতে পারব না।

এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও জাতীয় নেতা এ এইচ এম কামারুজ্জামান হেনার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ২০০৮ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়রপ্রার্থী হন এবং জয়লাভ করেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাকে রাজশাহীর অন্যতম সফল মেয়র বলা হয়।



, , ,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে