ইসরাইলের মুখ ফেরানো, বিএনপির হতাশা

ইসরাইলের মুখ ফেরানো, বিএনপির হতাশা

সেবা ডেস্ক: রাজনীতিতে চুড়ান্ত বৈরী সময় পার করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই বৈরী সময় কাটিয়ে উঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে দলটি। দলীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ও বিভিন্ন অন্তঃকোন্দল এবং সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে রাজপথের আন্দোলনে জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়ে অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ভিন্ন পন্থায় রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেই ভিন্ন পন্থার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে বিদেশিদের কাছে ভিক্ষা চাওয়া।

বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দেয়ার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ ইহুদী আইনজীবী কার্লাইলের পরামর্শে ইসরাইলের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করেছিলো দলটি। প্রসঙ্গত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির তদবিরের জন্য সম্প্রতি কার্লাইলের দিল্লি সফর করার কথা ছিল। কিন্তু কার্লাইল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হওয়ায় ভারত সরকার তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর আগে ২০১৬ সালে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী।ওই বৈঠক শেষে সাফাদি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘শিগগিরই সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজাই সরাইলিদের জন্য খুলে দেয়া হবে।বাংলাদেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে সম্প্রতি রাজনৈতিক সুবিধা আদায় এবং খালেদার মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথেআবারো কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে বিএনপি। ইসরাইলের সাথে বিএনপির এই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করেনমেন্দিএনসাফাদিও লর্ড কার্লাইল। উল্লেখ্য ইহুদী রাষ্ট্র হওয়াতে বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের কোনো ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এছাড়া আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ইসরাইল ঘোর বিরোধিতা করেছিল। সেই থেকে ইসরাইলের সাথে কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই বাংলাদেশের। বিতর্কিত এই ইহুদী রাষ্ট্রের শরণাপন্ন হতে চেয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপি।

কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়। বিএনপির ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটে চলেছে। প্রথম দিকে ইসরাইল বিএনপিকে সহযোগিতার কিছুটা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে নেতিবাচক সাড়া এসেছে ইসরাইলের কাছে থেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত ইউটার্ন নিয়েছে ইসরাইল। এছাড়া ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশের কোনো ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় বাংলাদেশের বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে আইনি বাধার কথাও ভাবনায় ছিল ইসরাইলের।

জানা যায় বিএনপির জন্য সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ইসরাইলের সাথে কার্লাইলের লবিং শুরুর পরপরই বিএনপির বিষয়ে তথ্য নিয়ে রিপোর্ট দিতে মোসাদকে নির্দেশ দেয় দেশটির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। মোসাদের রিপোর্টে বিএনপির ধর্মভিত্তিক রাজনীতির তথ্য বেরিয়ে এলে বেঁকে বসে ইসরাইল। এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে একাধিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল থাকায় বিএনপিকে কোনো রকম সহযোগিতা করতে আনুষ্ঠানিক ভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরাইল।

এদিকে একের পর এক নেতিবাচক খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের এমন দুর্দিনে কর্মী সমর্থকদের ঝিমিয়ে পড়া মনোভাব কিভাবে চাঙ্গা করা যায় এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে দলটির নীতি নির্ধারকরা।



,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে