শোকসংবাদ: বীরমুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী কালাম

শোকসংবাদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী কালাম


জামালপুর সংবাদদাতা: জামালপুরের মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস সহায়ক-খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা আফছার আলী ওরফে কালাম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজেউন। 

কালামের জামতা লালন মিয়া জানান-তিনি ১জানুয়ারি (শুক্রবার) ভোর ৬টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮বছর। কালামের জন্মস্থান জামালপুর নান্দিনার শ্রীবাড়ি গ্রামে। থাকতেন মেলান্দহ পৌরসভার বারইপাড়ার হনুমানতলায়। শুক্রবার বাদ আছর মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মেলান্দহ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন। অভাবি সংসারের হাল ধরতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বড় ভাই তোরাপ আলী দফাদার কালামকে পাকিস্তান পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করাতে থানায় নিয়ে যান। তখন চারদিকে পাকবাহিনীর তান্ডব চলছিল। ওই সময় কালামের প্রতিবেশি তোফাজ্জলসহ আরো ৪বন্ধু থানা থেকে কৌশলে পালিয়ে জিঞ্জিরাম নদী সাঁতরে ভারতে পাড়ি জমান। তিনি ৭নং উইং-এ রিক্রুট হন। পরে ১১নং সেক্টরের অধিনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

 তিনি নারায়নখোলা বাজার, চরাঘাটি, দুদুরামসহ বহু সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি জামালপুরমুক্ত পর্যন্ত যুদ্ধ করেছেন। নারায়নখোলা বাজার সম্মুখ যুদ্ধে সহযোদ্ধা তোফাজ্জলকে হারান। দেশ স্বাধীনের পর কালামের কাছে তোফাজ্জল শহীদ হবার খবর শোনে জ্ঞান হারিয়ে তোফাজ্জলের পিতাও মারা যান। শহীদ তোফাজ্জল এবং তার পিতার মর্মান্তিক মৃত্যৃর স্মৃতি কালামকে প্রায়ই বিচলিত করতো।

ওদিকে কালামের স্ত্রী আমেনাকে এক-দেড় মাসের গর্ভবতী রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে দেখেন স্ত্রী আমেনার কোলে ছেলে দুলালের জন্ম হয়েছে। কিছুদিন পর স্ত্রী কলেরা মহামারিতে মৃত্যুতে প্রায় বাকরুদ্ধ হন। পরে তিনি মেলান্দহ পৌরসভার বারইপাড়ার হনুমানতলার আলেপ উদ্দিনের মেয়ে মালেকাকে বিয়ে করে ঘরজামাই থেকে যান। 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।