সেবা ডেস্ক: রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘটিত সহিংস সংঘর্ষে গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
![]() |
কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নুরুল হক নুর মারাত্মক আহত: তারেক রহমানের নিন্দা ও তদন্তের আহ্বান |
এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণ-অধিকার পরিষদের একটি মশাল মিছিলের সময় জাপা নেতাকর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
(ads1)
এই তর্ক দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং সহিংসতায় রূপ নেয়। গণ-অধিকার পরিষদের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে জাপা ও তাদের মিত্রদের সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
জাপা নেতারা অভিযোগ করেন, গণ-অধিকার পরিষদের মিছিল থেকে তাঁদের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাত সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পুনরায় জাপা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ১০ মিনিট সময় দেয়, কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়।
এই লাঠিচার্জে নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কাকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্যসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হন।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার গভীর রাতে তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় বিএনপি।
আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি অত্যন্ত নাজুক সময়ের মধ্যে আছি, যার প্রথম পদক্ষেপ হল জাতীয় নির্বাচন। সম্মিলিতভাবে, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আজকের মতো অস্থিতিশীল ঘটনা যেন ছড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ও এর সহযোগী দলসহ গণতন্ত্রকামী সব পক্ষকে অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশকে অবশ্যই মব ও চলমান অস্থিরতার ঘেরাটোপ থেকে মুক্ত হতে হবে।”
মব কালচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি জোর দেন, “বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের মব কালচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তুলতে হবে।
কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করার এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফলতা অর্জন করতে পারি।”
তারেক রহমান নুরুল হক নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, “আমি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এ ঘটনার আইনানুগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি।”
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে পুলিশ সদস্যরা আহত হলে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করতে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বারবার অনুরোধ জানায়।
কিন্তু কিছু নেতাকর্মী এই নির্দেশ উপেক্ষা করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে বাহিনীগুলো বাধ্য হয়ে বল প্রয়োগ করে।
(ads2)
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
সেনাবাহিনী জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
সংঘর্ষের কারণে কাকরাইল, বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে পড়েন, এবং জনদুর্ভোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যদিও যান চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়েছে, তবু পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং দলগুলোর মধ্যে শত্রুতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
জাতীয় পার্টির আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐতিহাসিক জোট এবং গণ-অধিকার পরিষদের তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এই সংঘর্ষের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গণ-অধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টিকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জাপা দাবি করেছে যে তাদের কার্যালয়ে বারবার হামলা ও উসকানির শিকার হচ্ছে।
সংঘর্ষের পর সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। X প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের দাবি তুলেছেন।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কাকরাইলের ঘটনা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতির প্রমাণ। এখনই সময় সংযম ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “নুরুল হক নুরের ওপর হামলা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”
কাকরাইলের এই সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা এবং দলগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদের চিত্র তুলে ধরেছে।
তারেক রহমানের আহ্বান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সংযম, সহনশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা জরুরি।
নুরুল হক নুরের দ্রুত আরোগ্য এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে, এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতীক্ষিত।
খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।